কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গায় সার ডিলারের গুদামের গেট ও বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দুটি কমিটি। উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) পৃথক কমিটি ঘটনাটি তদন্ত করছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার তাইফুর রহমান মুকুলের গুদামের গেট ও বেড়া ভেঙে ২০২ বস্তা ইউরিয়া এবং ২৩ বস্তা পটাশ সার নিয়ে যান বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। পরে নেওয়া সার থেকে ১০৭ বস্তা ইউরিয়া ফেরত দিয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেককে। অন্যদিকে বিসিআইসির পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করছে।
উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ঘটনার পর রোববার রাতে ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আরও পড়ুন: ভূরুঙ্গামারীতে ‘সার ডাকাতি’
কৃষকদের অভিযোগ, আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগ জরুরি হলেও তারা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ডিলারের কাছে ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছিলেন না। টাকা দিয়েও সার না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
কৃষকদের দাবি, ডিলারের গুদামে চার কিস্তিতে তোলা ১ হাজার ৩৬০ বস্তা সার থাকার কথা ছিল। কিন্তু গুদামে পাওয়া যায় মাত্র ৩৪০ বস্তা। সার বিতরণে টালবাহানার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা গুদাম থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় সার নিয়ে যান বলে জানান।
তবে গুদামে সার কম থাকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক বলেন, ‘ডিলারের গুদাম থেকে কৃষকদের সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।’
এ ঘটনায় গুদামে বরাদ্দকৃত ও মজুত থাকা সারের হিসাব, বিতরণ প্রক্রিয়া এবং কৃষকদের অভিযোগসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি