কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়—কোনো অলৌকিক নিদর্শন দেখার আগেই একটি পুরো সমাজ কাকে নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করেছিল? উত্তর আসবে একটাই: মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। নবুয়তের মহাভার বহনের আগেই তাঁর জীবন ছিল সত্য, সুন্দর ও মানবতার এক অমলিন দলিল।
আরবের ঘোর অন্ধকার যুগে, যখন চারপাশ নিমজ্জিত ছিল মিথ্যা, অবিচার আর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে; ঠিক তখন মরুর বুকেও ফোটে এক নির্ভেজাল সত্যের ফুল। বাল্যকাল থেকেই মুহাম্মদ (সা.)-এর সত্যবাদিতা, সততা ও নিখাদ আমানতদারি দেখে মক্কাবাসী বিস্মিত হয়ে যায়। বন্ধু কিংবা শত্রু—নিজের সবচেয়ে মূল্যবান আমানত গচ্ছিত রাখার জন্য তাঁর চেয়ে নিরাপদ কোনো আশ্রয় আর কারো জানা ছিল না। কোনোদিন কোনো প্রবঞ্চনা বা মিথ্যার স্পর্শ তাঁকে ছুঁতে পারেনি। তাই ভালোবেসে সমগ্র মক্কাবাসি তাঁকে এক নামে ডাকতেন —‘আল-আমিন’, অর্থাৎ পরম বিশ্বাসী বলে।
মুহাম্মদ (সা.)-এর বয়স তখন আনুমানিক বিশ বছর। ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহ নৃশংসতা ও মাজলুম মানুষের আর্তনাদ তাঁর কোমল হৃদয়কে গভীরভাবে ব্যথিত করে। মজলুমের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনতে দূরদর্শী ও কয়েকজন যুবককে সাথে নিয়ে তিনি গঠন করেন এক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি—‘হিলফুল ফুজুল’। মাজলুমের পাশে দাঁড়ানো এবং অত্যাচারীর হাত থেকে নির্দোষকে রক্ষা করার এই চুক্তি বিশ্ব ইতিহাসে মানবসেবা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের এক অনন্য নজির হয়ে আছে।
তরুণ বয়সেই তাঁর সততা ও অসাধারণ মেধার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে আরবের ব্যবসায়ী মহলেও। মক্কার সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত ও ধনী ব্যবসায়ী নারী হযরত খাদিজা (রা.) তার ব্যবসার দায়িত্ব তুলে দেন আল-আমিনের হাতে। সিরিয়া সফরে মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যবসায়িক সততা, অলৌকিক মেজাজ এবং নৈতিক উচ্চতা দেখে খাদিজা (রা.)-এর গোলাম মায়সারা অভিভূত হন।
জা.অর্থনীতি