পদ্মা-যমুনায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ডাকাতি, নেপথ্যে বিআইডব্লিউটিএ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: পদ্মা ও যমুনা নদীর মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ চাঁদা আদায়, ছিনতাই ও ডাকাতি। পাটুরিয়া, আরিচা ও হরিরামপুর পয়েন্টে চলাচলরত বালুবাহী বলগেটসহ বিভিন্ন নৌযানকে জিম্মি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লুটে নিচ্ছে একটি সশস্ত্র চক্র। ভুক্তভোগী নৌযান শ্রমিকদের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় এ অপকর্ম চালানো হচ্ছে।

নৌযান শ্রমিকদের দাবি, চক্রটির প্রায় ৫০ জন অস্ত্রধারী সদস্য ১০-১২টি ট্রলার নিয়ে 'চ্যানেল চার্জ' আদায়ের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে বলগেটপ্রতি ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। টাকা না দিলে অস্ত্রের মুখে মারধর ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন হত্যা ও একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি, যারা সর্বহারা লাল পতাকা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে নদীতে আস্তানা গেড়েছে। ইতিপূর্বে তেওতা বালুমহলের ম্যানেজার চাঁদা দিতে বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।

নৌযান শ্রমিক নেতারা জানান, দৌলতদিয়া থেকে পাকশী পর্যন্ত সরকার ঘোষিত বৈধ চ্যানেল রয়েছে, যার বাইরে হরিরামপুর বা যমুনায় নতুন কোনো চ্যানেলের তথ্য তাদের জানা নেই। অথচ বিআইডব্লিউটিএর তদারকির অভাবে পুরো নদী দখল করে চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে। বারবার জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের পোর্ট অফিসার সুব্রত রায় জানান, নিয়ম অনুসারেই চ্যানেল চার্জ আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরে কোনো অনিয়ম হলে তা দেখার দায়িত্ব নৌপুলিশের। অন্যদিকে, ফরিদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশ সুপার মোঃ বরিউল ইসলাম জানান, চ্যানেল চার্জের নামে ডাকাতি বা চাঁদাবাজিতে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। নৌপথ নিরাপদ করতে নৌশ্রমিকেরা দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি