নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রামের শীতলপাটি প্রস্তুতকারী, কামারসহ প্রান্তিক কারিগরদের শুধু ঋণ বা আর্থিক সহায়তা নয়, তাদের পণ্যের মান, নকশা ও ব্র্যান্ডিং উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে স্থানীয় কারিগরদের আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এসডিজি বিষয়ক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, গ্রামের একজন কারিগরকে শুধু মূলধন দিলেই তার জীবনমানের স্থায়ী উন্নয়ন হবে না। তার পণ্যের মান বাড়াতে হবে, ভালো কাঁচামাল কেনার সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের সহায়তা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে’
তিনি বলেন, একজন কারিগরের তৈরি ১০ টাকার পণ্য মানোন্নয়ন ও সঠিক বাজারজাতকরণের মাধ্যমে ৩০ টাকার পণ্যে পরিণত করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা তৈরি করা গেলে সরাসরি লাভবান হবেন কারিগররা। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব পণ্য বিদেশে বাজারজাত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলিবাবা, আমাজন ও ইবের মতো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রান্তিক কারিগরদের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার উপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
থাইল্যান্ডের ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি এলাকার ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে মানসম্মত করে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন্য সরকার, এনজিও ও বেসরকারি খাতকে নিয়ে একটি সমন্বিত কমিটি কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক প্রকল্প পরিচালনা করে সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের চেষ্টা চলছে। ফ্যাশন ডিজাইনার, তাঁত বিশেষজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয়কারীদেরও এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এনবিআর ভেঙে নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলাদা করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী
আমির খসরু বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পথ। শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে উৎপাদন, বাজার ও অর্থায়নের সঙ্গে তাদের যুক্ত করতে হবে।
এসডিজি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মূল দর্শন বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও উন্নয়ন ভাবনায় আগেই ছিল। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ এসডিজির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
—জা.অর্থনীতি/আরএস