ডলারের কাছে হার মানছে সোনা!
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে আমেরিকান ডলারের দাপট, আর তার চড়া মাশুল গুনছে সোনা! একের পর এক সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিতে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকছেন বন্ড ও ডলারের দিকে। আপনি যদি সোনায় বিনিয়োগের কথা ভেবে থাকেন, তবে এখনই থামুন! কারণ বিশ্ব অর্থনীতিতে ঘনীভূত হচ্ছে এক নতুন ঝড়।

বিশ্ববাজারে সোনার উজ্জ্বলতা যেন এক লহমায় ফিকে হতে শুরু করেছে। অর্থনৈতিক পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতি-সিদ্ধান্তের কারণেই মূলত এই বড় ধরনের রদবদল। বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভ তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩.৫০% থেকে ৩.৭৫% এর মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে। টানা পঞ্চমবারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্তটি আসে গত জুলাইয়ের বৈঠকেই।

তবে আসল নাটকীয়তা শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ, যিনি গত মে মাসে জেরোম পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, জ্যাকসন হোল ইকোনমিক সিম্পোজিয়ামে দিয়েছেন এক কড়া বার্তা। পদগ্রহণের ১০০তম দিনে দাঁড়িয়ে তিনি পরিষ্কার জানান- গ্রীষ্মের সময়ে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে মনে হলেও তা কাঙ্ক্ষিত ২% লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। আর তাই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আবারও সুদের হার বাড়ানো হতে পারে।

ওয়ার্শের এই বক্তব্য বাজারে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছে। ব্রিটিশ ব্যাংক বার্কলেজের মতে, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে আরও দুই দফা সুদের হার বাড়াতে পারে ফেড। এমনকি সেপ্টেম্বরের আসন্ন বৈঠকেই সুদ ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশে পৌঁছে গেছে।

যখনই মার্কিন সুদের হার বাড়ে, তখনই বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী হতে শুরু করে আমেরিকান ডলার। শক্তিশালী ডলারের কারণে বিশ্বের অন্যান্য মুদ্রায় সোনা কেনা অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে বিশ্ববাজারে এই মূল্যবান ধাতুর চাহিদা অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি, সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত বন্ডে বেশি লাভ পান, ফলে সোনা ছেড়ে বন্ডেই ঝুঁকছেন তারা।

আগামী ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফেডের পরবর্তী নীতি-নির্ধারণী বৈঠক। এরপর অক্টোবরের শেষে ও ডিসেম্বরে আরও দুটি বৈঠক রয়েছে। শ্রমবাজার ও মুদ্রাস্ফীতির ডেটা দেখে যদি সুদের হার সত্যি বাড়ানো হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশেষ করে আবাসন খাত, ঋণের খরচ এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে পড়বে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব।

ডলারের কাছে হার মানছে সোনা!

ভুল জায়গায় বিনিয়োগ করে টাকা খোয়াচ্ছেন না তো? সুদের হার বাড়ার সুবাদে বিশ্ববাজারে এখন রাজত্ব করছে আমেরিকান ডলার। ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, মুদ্রাস্ফীতি দমনে আবারও বাড়ানো হতে পারে সুদের হার। যার সরাসরি ধাক্কা গিয়ে পড়েছে সোনার ওপর। ব্যাংকের চড়া সুদের মুখে সোনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ডলারের শক্ত অবস্থান কি সোনাকে আরও নিচে নামাবে? সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নজর রাখুন সেপ্টেম্বর বৈঠকের দিকে।

বিশ্ববাজারে ডলারের রাজত্ব, পতনের মুখে সোনার বাজার

আমেরিকান ফেডের ১০০ দিনের মাথায় কেভিন ওয়ার্শের এক বক্তব্যেই কাঁপছে সোনা ও মুদ্রাবাজার! ৩.৫০% থেকে ৩.৭৫% এ আটকে থাকা সুদের হার সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে আরও ২ দফা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে ব্যাংক বার্কলেজ। সুদের হার বাড়লে বন্ডের লাভ বাড়ে, ডলার শক্তিশালী হয় আর সোনার দাম তলানিতে গিয়ে ঠেকে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেড যদি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়ায়, তবে বিশ্বজুড়ে ঋণের খরচ ও সঞ্চয়ে আসবে বড় বিপর্যয়!

—জা. অর্থনীতি/এলএটি