এবার সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা
ছবি সংগৃহীত

সিলেট প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের পর এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে। এনসিপির স্থানীয় নেতারা এই হামলার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আড়াইটার দিকে গোলাপগঞ্জ  উপজেলার চৌমুহনীস্থ পৌরসভার গেটের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। 

'আওয়ামী লীগের মতো বালুর ট্রাক দিয়ে আমাদের আটকানো হয়েছিল'

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, গোলাপগঞ্জে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর পৌর এলাকার চৌমুহনীতে পৌঁছালে কয়েকজন তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে বহরের কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। এ সময় হামলাকারীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন বলেও এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এনসিপির সিলেট জেলা শাখার নেতারা অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করতে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যায় পুলিশি বাধার মুখে এনসিপি শীর্ষনেতৃত্ব

এর আগে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার পর বৃহস্পতিবার এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে পৌঁছান। দুপুরে দক্ষিণ সুরমার পারাইচক বাইপাস এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীরা তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে তারা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) যান। সেখান থেকে গোলাপগঞ্জের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে এনসিপি।

ঘটনার বিষয়ে গোলাপগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহ আলম বলেন, ঢিল নিক্ষেপের ঘটনায় একটি গাড়ির কাচ ভেঙেছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরকে পুলিশি নিরাপত্তায় (এসকর্ট) কানাইঘাটের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে হামলার অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি