আত্মসমর্পণ ইরানি ইতিহাসে নেই : অ্যাডমিরাল সাইয়্যারি
অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের কোন সুযোগ বা স্থান ইরানি জনগণের ইতিহাসে নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বর্তমান ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই অভূতপূর্ব শক্তি এবং প্রতিরোধ সক্ষমতা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য ও হজম করা কঠিন।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাইয়্যারি জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সহনশীলতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণ, সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যবর্তী ইস্পাতকঠিন সংহতিই আমেরিকান সন্ত্রাসী শক্তির যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলার একমাত্র কার্যকর কৌশল।

বিগত চার দশক ধরে বিশ্ব আধিপত্যবাদী শক্তির বৈরী আচরণের চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে গৃহযুদ্ধ বা বিচ্ছিন্নতাবাদ উসকে দেওয়া, আট বছরের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া কিংবা সাংস্কৃতিক ও হাইব্রিড যুদ্ধ—কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি। প্রতিটি পদক্ষেপেই ইরানি জনগণের দৃঢ় মানসিকতার কাছে শত্রু চরমভাবে পরাজিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতগুলোতে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনকে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান কখনোই আগে যুদ্ধ শুরু করেনি; কেবল মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়েছে, ফলে শত্রুর নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়াটাই তাদের চূড়ান্ত পরাজয়কে নির্দেশ করে।

সাইয়্যারি আরও যুক্ত করেন, নিহত নেতা ও সাম্প্রতিক যুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতিকে আরও সুসংগঠিত এবং প্রতিশোধের চেতনায় উদ্দীপিত করেছে।

দেশের বর্তমান এই অদম্য প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ইরানকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: পার্সটুডে

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ