শফিকুল ইসলাম শামীম, নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে মাছের বাজারেও রয়েছে উচ্চমূল্য। তবে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। সব মিলিয়ে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজার করা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টিপাত ও বর্ষা মৌসুমের প্রভাবে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসা এবং পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
আগারগাঁও তালতলা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা ইমতিয়াজ আলী বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে প্রায় সব সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। তবে সবজির মান বা কোয়ালিটি অনুযায়ী দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।’

তবে সবজির বাজারে ব্যতিক্রমও আছে। পেঁপে, পটল ও ঢেঁড়স এখনও তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির তুলনায় এই তিনটি পণ্যের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সবজির বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। বাজারে আসা অনেক ক্রেতাই বলছেন, আগের বাজেটে এখন আর প্রয়োজনীয় সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
বেসরকারী চাকরী জীবি প্রশান্ত নামের একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এলে এখন সবজি কিনতেই কষ্ট হয়। কোনটা রেখে কোনটা কিনব, সেটাই বুঝতে পারি না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
তবে কিছু ক্রেতা পরিস্থিতিকে মৌসুমি বাস্তবতা হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, টানা বৃষ্টির কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন ও সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় দাম কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক।
আবুল হোসেন নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘বৃষ্টি ও বর্ষার সময় একটু কষ্ট তো হবেই। সরকারের সবসময় কিছু করার থাকে না। সরবরাহ ঠিক হলে দামও কমে যাবে।’
শুধু সবজিই নয়, মাছের বাজারেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারাও বলছেন, তারা বেশি দামে মাছ কিনে আনছেন বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
কবির হোসেন নামের একজন মাছ বিক্রেতা বলেন, ‘মাছের দাম শুধু বেশি না, অনেক বেশি। কাস্টমার দাম শুনে ঝামেলা করে। আমাদেরও খারাপ লাগে, কিন্তু বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না।’
অন্যদিকে মুরগির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা নেই। কোথাও কোথাও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা দাম বাড়লেও আবার কিছু বাজারে সামান্য কমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে মুরগির বাজারকে স্থিতিশীল বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
হায়দার আলী নামের এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, ‘মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোথাও ৫–১০ টাকা বেশি, আবার কোথাও কিছুটা কমও আছে।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে সবজির উৎপাদন, সংগ্রহ ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় প্রায় প্রতিবছরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে বাজারে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে কার্যকর নজরদারি থাকলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং প্রয়োজনীয় তদারকির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হবে। কারণ সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সবজির বাড়তি দাম পুরো বাজার ব্যবস্থার ওপরই চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই বাজারে স্বস্তি ফেরাতে সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ক্রেতা ও সচেতন নাগরিকরা।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ