মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র প্রধান শিক্ষক সংকট চলছে। উপজেলার মোট ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮১টি স্কুলেই কোনো নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্বাভাবিক পাঠদান প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলের ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৭টি বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত থাকলেও বাকি ৮১টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে আছে। এই শূন্যতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত মামলা এবং পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের জটিলতাকে দায়ী করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন পদোন্নতি স্থগিত ছিল এবং বাকি ৪৬টিতে প্রশাসনিক জটিলতায় নতুন পদায়ন সম্ভব হয়নি।
নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে মাত্র ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষক দিয়ে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তাদের মধ্য থেকেই একজনকে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি দাপ্তরিক কাজ, সরকারি প্রতিবেদন তৈরি ও সভা-সেমিনার সামলাতেই ব্যস্ত থাকছেন। ফলে ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগ দিতে পারছেন না। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে অনেক স্কুলেই চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।
চাতালী চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজয় নুনিয়া নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করেই আমাদের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গেজেটে ভুলবশত আমাদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়। এই প্রশাসনিক ত্রুটির বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে মামলা করলে আদালত একাধিকবার আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমরা প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছি। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই, আদালতের রায় বাস্তবায়ন করে গেজেট সংশোধনের মাধ্যমে আমাদের দ্রুত স্থায়ী স্বীকৃতি দেওয়া হোক।"
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "বর্তমানে ৫৭ জন নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন এবং মামলার বাইরে থাকা ৪৬টি পদ শূন্য রয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত যে মামলার কারণে ৩৫টি বিদ্যালয়ে পদোন্নতি স্থগিত ছিল, সম্প্রতি সেটির রায় হয়েছে। আদালতের এই রায় দ্রুত বাস্তবায়িত হলে স্থগিত থাকা পদগুলোতে নতুন করে পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আশা করছি, এর মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের এই দীর্ঘদিনের সংকট অনেকাংশেই কেটে যাবে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি