অনলাইন ডেস্ক: টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। গত পাঁচ দিনে বৃহত্তর চট্টগ্রামে পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙামাটি। কক্সবাজারে ২২ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙামাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও সাতকানিয়ায় দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসে একই এলাকার দুটি পরিবারের এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড়ধসে দুই শিশু এবং বন্যার পানিতে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে শুধু সাতকানিয়া উপজেলাতেই প্রায় তিন লাখ মানুষ বন্যাকবলিত। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং বেশ কয়েকটি আন্তনগর ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। রাঙামাটির সাজেকে আটকে পড়া ৫৬১ পর্যটকদের সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসন সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে কয়েকটি ইউনিয়নের ২০ থেকে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সব ধরনের ছুটি বাতিল করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জা.অর্থনীতি/এসআই