অনলাইন ডেস্ক: জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আলোচিত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও শুধু বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বেবিচকের প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তিরান হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে শরিফুল ইসলামকে সিভিল সার্কেল প্রকল্প থেকে পিডিকিউ অ্যান্ড কিউএস সার্কেলে পদায়ন করা হয়। একই সঙ্গে তাকে পরিচালক (এরোড্রাম স্ট্যান্ডার্ড), এফএস অ্যান্ড আর বিভাগে সংযুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত জুনে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০০১ সালে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তিনি সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বেবিচকে নিয়োগ পান। অনুসন্ধানে সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা ডেটাবেইসে তার বাবার নাম না থাকলেও চাকরিসংক্রান্ত নথিতে চারটি ভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য পাওয়া যায়। সনদগুলোতে পৃথক তারিখ, স্মারক নম্বর ও বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর থাকায় সেগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেবিচককে নির্দেশ দেয়। এ ছাড়া শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, কাওলা আবাসিক কোয়ার্টার রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ আত্মসাৎ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত ও মামলাও চলমান রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলেও বদলির আদেশে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বেবিচক এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
জা.অর্থনীতি/এসআই