ডাকরা জলমহল অবৈধ বিক্রি, অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর রেজার বিরুদ্ধে সরকারি 'ডাকরা' জলমহল বর্তমান ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবৈধভাবে অগ্রিম বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রচলিত বিধি উপেক্ষা করে লাখ লাখ টাকায় জলমহলটি আরও দুই বছরের জন্য বিক্রির এই উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

রোববার (৫ জুলাই) প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২০২৫ সালে ডাকরা জলমহলটি তিন বছরের জন্য মাইনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হয়, যার মেয়াদ এখনও প্রায় দুই বছর বাকি রয়েছে। কিন্তু সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জলমহলটি গোপন চুক্তিতে আরও দুই বছরের জন্য অগ্রিম বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগকারী মামুন আলী জানান, এর আগে গত ২৭ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ দিলে কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ হলেও, এখন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জলমহলটি অবৈধভাবে বিক্রি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, জলমহল অগ্রিম বিক্রির বিষয়ে পরিষদের কোনো সভায় আলোচনা করা হয়নি এবং অধিকাংশ সদস্যের মতামতও নেওয়া হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ গোপনে করা হয়েছে। কত টাকায় জলমহলটি বিক্রি করা হয়েছে, সে বিষয়েও সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় এটি বিক্রি হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। জলমহলটির ক্রেতা চকশিরামপুর গ্রামের মতি জানান, তিনি দুই বছরের জন্য জলমহলটি কিনেছেন এবং বর্তমান ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দখল বুঝে পাবেন। তবে টাকার অঙ্কের বিষয়ে তিনি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ বিষয়ে দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল লতিফ বলেন, প্রথমে তিন বছরের জন্য এবং পরে আরও দুই বছরের জন্য জলমহল বিক্রির কার্যক্রম হয়েছে। রেজুলেশন প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে, তা সম্পন্ন হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর রেজা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইউএনও বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে এটি বৈধ নাকি অবৈধ, তা যাচাই করা হবে। তদন্তে অবৈধভাবে অগ্রিম জলমহল বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি