মাইদুল আলম বাবু: অলিম্পিক বিশালত্ব ও ইতিহাস ঐতিহ্যর দিক থেকে অনেক ওপরে। এতে কোনো সন্দেহ নেই— কিন্তু গণমানুষের খেলা ফুটবল। সাধারণ মানুষ আবেগ ও ভালোবাসা থেকে অলিম্পিকের মতোই ফুটবল এখন গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। বাংলাদেশের বাস্তবতায় ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলে। সেটাও আবেগের এই দক্ষিণ এশিয়ায়। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের সময় সব কিছু ছাড়িয়ে যায়। দেশ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ব্রাজিল এক পাশে থাকে।
আরেক পাশে থাকে আর্জেন্টিনা। রাগবির ফাইনাল, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল বলেন যেটাই হোক ফুটবলের মতো এমন আবেগে ভাসে। বিশ্বকাপের মাসে অন্য নাটক সিনেমা ক্রিকেট রাগবি নিয়ে আলোচনা মিলিয়ে যায় নিমিষে। তাদের ফুটবল দল পছন্দ, আবার পছন্দের ফুটবলারও রয়েছে। অন্য খেলার তারকারাও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন ও পতুর্গাল সাপোর্ট দেন।
এই পৃথিবীতে ২১৭টি দেশ। ফিফার সদস্য সেখানে ২১১টি। সব দেশে ফিফার কার্যক্রম রয়েছে। তবে বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা শুরু সাদা কালো যুগের টেলিভিশনে। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয় অনুপ্রেরণা ও আবেগের জন্ম দেন। ওভাবে ৬-৭ জনকে কাটিয়ে গোল করা ছিল অবিশ্বাস্য। টিভির পর্দায় ওভাবে খেলতে দেখে সবাই ভালোবেসে ফেলে সবাই। একা একজন মানুষ কীভাবে এভাবে খেলে সেটাই ছিল বিস্ময়। সেসময় ছিল না নেট বা ফেসবুক। মাইকেল জ্যাকসনের মতো ম্যারাডোনা ছিলেন পুরো বিশ্বের সুপারস্টার। আজকে ফুটবলকে এখানে নিয়ে আসার পেছনে ম্যাজিকাল সবকিছু তিনি করেছেন। ফুটবল তাদের কাছে ঋণী থাকবে।
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০৩০ সালে ১০০ বছর হবে এই বিশ্বকাপের বয়স। ফিফা বিশ্বকাপ যে সফল সেটা এই সময় দেখলেই বোঝা যায়। একটা টুর্নামেন্ট ১০০ বছর পার করলে সেটাকে গ্রেটেস্ট গেম আপনাকে বলতেই হবে। ৪৮টি দেশ খেলবে। যেটা অবশ্যই বড় কিছু। ২০৩৪ সালে সৌদি আরব এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের খরচের যত রেকর্ড আছে সব ভেঙে দেবে তারা। ‘নিওম’ নামে একটা কৃত্রিম শহরই তারা তৈরি করেছে ৫০০ বিলিয়ন ডলার দিয়ে।
ফুটবল ভক্ত ও সমর্থকদের প্রাণের খেলা। তবে সেসময় যুক্তরাষ্ট্র কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। ফুটবলে শুধু শ্বাসরোধ করা পরিস্থিতি ও রোমাঞ্চকর ব্যাপারই নয়। বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম ও টিকটকে বিশাল বাজার ও অডিয়েন্স। কোনো খেলা এভাবে এত ব্যাপকভাবে সারা বিশ্বে প্রচার হয় না।