বিনোদন প্রতিবেদক: অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন টেলিভিশন নাটকের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশান থানা এলাকায় একটি হত্যা মামলায় সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই মামলায় দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন এই অভিনেতা। গণমাধ্যমকে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিদ্দিক জানান, গত ১৮ মার্চ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কারাগার থেকে বের হওয়ার পর এক ভিন্ন অনুভূতি কাজ করছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
সিদ্দিক আরও বলেন, ‘আমার নামে দুটি মামলা রয়েছে। আমি প্রায় ১০ মাস কারাগারে ছিলাম। জীবনের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছি। মুক্তির পর গত কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়েছি। এতদিন এক ধরনের পরিবেশে ছিলাম, এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে এসেছি। নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্যই এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করিনি।’
এ সময় জেলজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিদ্দিক বলেন, ‘আসলে জেলে প্রচুর চিন্তা করার টাইম পাওয়া যায়। ওই সময়টা সঠিকভাবে ব্যবহার করেছি। তখন ভাবছিলাম আমি শিল্পী মানুষ, সময়টাকে কাজে লাগাই। আল্লাহই আমাকে পরিবর্তন করিয়েছেন। আগে দ্বিনের কাজে সেভাবে লিপ্ত ছিলাম না। জেলে কোরআন ধরলাম। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করলাম। সেখান থেকে ধীরে ধীরে আমার মধ্যে পরিবর্তন আসে।’
জেলের দেয়ালে লেখা একটি লাইন তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে সিদ্দিক বলেন, ‘রাখিব নিরাপদ দেখাবো আলোর পথ—এই লাইনটা আমাকে নাড়া দিয়েছে। তারা যেহেতু জেলে নিরাপদে রাখবে, আমি নিজেই আলোর পথ খুঁজে নিয়েছি। সেই সঙ্গে জেলে বসে ১৫টি নাটক ও ৩টি সিনেমার গল্প লিখেছি। নিজের ওপর একটি বই লিখেছি। জেল থেকে বের হলেও আমার সেই ট্রমা এখনো কাটেনি। শারীরিক ও মানসিকভাবে আগের রুলসের মধ্যে যাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশান থানা এলাকায় একটি হত্যা মামলায় সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার এসআই সামিউল ইসলাম গত বছর ১২ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ফার্নিচারকর্মী পারভেজ বেপারী। জুমার নামাজের পর আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পারভেজের বাবা মো. সবুজ গত বছরের ২ জুলাই গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারের প্রায় দশ মাস পর সেই মামলা থেকে জামিনে মুক্ত হলেন সিদ্দিক।
—জা. অর্থনীতি/এনএ