জাতীয় সংহতি ও আত্মনির্ভরতার দর্শনে জিয়াউর রহমান

অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য, রাষ্ট্রীয় সংহতি ও আত্মনির্ভরতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পরিবর্তন সূচিত হয়, তার ধারাবাহিকতায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে উঠে আসেন। পরবর্তী সময়ে তার রাষ্ট্রচিন্তা ও উন্নয়ন দর্শনে জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা অর্জনের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি জাতীয়তাবাদকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ জন্য ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য জাতীয় সংহতি ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে জিয়াউর রহমানের চিন্তা, উদ্যোগ ও রাজনৈতিক দর্শন পর্যালোচনার একটি বিশেষ উপলক্ষ বটে। 

বলা বাহুল্য, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, খাদ্যসংকট, দারিদ্র্য ও প্রশাসনিক দুর্বলতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরমভাবে দুর্বল করে তুলেছিল। এমন পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশকে পুনর্গঠনের জন্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জনগণের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেন। তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি ছিল, একটি দেশকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন বা সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, তরুণ, নারী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী হতে পারে। 

জিয়াউর রহমানের চিন্তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় তার ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচিতে। ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল ঘোষিত এ কর্মসূচিতে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, কৃষির উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। কর্মসূচিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল উন্নয়নকে কেবল সরকারের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে জনগণের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সম্পদ ও উদ্যোগের পাশাপাশি মানুষের শ্রম, মেধা ও অংশগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করা। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আত্মনির্ভর বাংলাদেশের ধারণাটি তার রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রে স্থান পায়।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশকে আত্মনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার উন্নয়ন ভাবনার সবচেয়ে দৃশ্যমান দিক ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ। বাংলাদেশের অর্থনীতি ঐতিহাসিকভাবে কৃষিনির্ভর। দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা, কর্মসংস্থান ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই কৃষির উৎপাদন বাড়ানো, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষকের কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো গড়ে তোলাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ সময় খাল খনন প্রকল্পের মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয় জনগণকে উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। 

গ্রামীণ উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টিও তার কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। রাষ্ট্রের সব সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে গ্রহণ করা হলে স্থানীয় মানুষের বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজন অনেক সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। সে কারণে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থানীয় পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জিয়াউর রহমানের সময় গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের মানুষকে স্থানীয় সমস্যা সমাধান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত করা। 

আত্মনির্ভরতার ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে তিনি কৃষির পাশাপাশি শিল্প ও বেসরকারি খাতের বিকাশেও গুরুত্ব দেন। তার সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বেসরকারি উদ্যোগের জন্য সুযোগ সৃষ্টি, রপ্তানি বাড়ানো এবং উৎপাদনশীল খাতকে উৎসাহিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা সম্প্রসারণের পথ তৈরি হয়। তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশও এই সময়ের বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। পরবর্তী সময়ে উদ্যোক্তা, শ্রমিক, নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক বাজার এবং ধারাবাহিক সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। জিয়াউর রহমানের সময় রপ্তানিমুখী অর্থনীতি ও বেসরকারি উদ্যোগের প্রতি যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা এ পরিবর্তনের প্রাথমিক নীতিগত পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল। 

জাতীয় সংহতির প্রশ্নে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। তার ধারণায়, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় কেবল ভাষা বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এ দেশের ভূখণ্ড, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নাগরিকত্ব এবং অভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সব নাগরিকের মধ্যে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক, বহুধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। তাই জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে এমন একটি নাগরিক পরিচয়, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি বা সামাজিক অবস্থানের ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই রাষ্ট্রের সমান অংশীদার। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণায় এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। 

স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন ছিল জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তার বিশেষ দিক। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তার পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক সমতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের প্রচেষ্টাও তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অংশ ছিল। 

বলা বাহুল্য, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা তার পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে দূরদর্শী উদ্যোগগুলোর একটি। ১৯৮০ সালের তিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। পরবর্তী সময়ে এ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে যায়। ১৯৮৩ সালে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ঘোষণা গৃহীত হয় এবং ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় সার্ক সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। যদিও জিয়াউর রহমান সার্ক প্রতিষ্ঠার আগেই ১৯৮১ সালে নিহত হন। তবে তার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। তার এই উদ্যোগের মূল ভাবনা ছিল ভৌগোলিক নৈকট্য, অভিন্ন সমস্যা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারে।

বর্তমান বাংলাদেশের জন্য জিয়াউর রহমানের আত্মনির্ভরতার এসব প্রশ্নের প্রাসঙ্গিকতা আরও বেশি। এখনও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করা, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। উন্নয়নের সুফল রাজধানী বা বড় শহরকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। স্থানীয় জনগণকে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। 

অবশ্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয় সংহতি ও আত্মনির্ভরতার দর্শনকে সমসাময়িক বাস্তবতায় এগিয়ে নেওয়ার বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি, কৃষক কার্ড প্রবর্তন, কৃষিঋণ মওকুফ এবং কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পরিকল্পনার মধ্যে জিয়াউর রহমানের কৃষিনির্ভর উন্নয়নচিন্তার ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাধার খনন-পুনর্খননের উদ্যোগ সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সামাজিক সুরক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যা দেশকে এগিয়ে নিতে অনেক বেশি কার্যকরী হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিও জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি বিশেষ বার্তা বহন করে তা বলাই বাহুল্য। 

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য কেবল অতীতের একটি রাজনৈতিক ঘটনাকে স্মরণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকারকে নতুন করে ধারণ করার মধ্যেও নিহিত। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তায় জাতীয় সংহতি, জনগণের অংশগ্রহণ, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি যে গুরুত্ব পেয়েছিল, তা বর্তমান বাংলাদেশের জন্যও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সময় ও বাস্তবতা বদলেছে, কিন্তু একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক লক্ষ্যগুলো এখনও একই রয়ে গেছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের চলমান প্রচেষ্টা তখনই অর্থবহ হবে, যখন উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনক্ষম অর্থনীতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই জাতীয় সংহতি ও আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেতে পারে। ৭ নভেম্বরের সংহতিকে সামনে রেখে আমাদের সেই সম্মিলিত দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের মধ্যেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
 
অধ্যাপক ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়