আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ের প্রতি অনাগ্রহ বাড়ছে। সরকারি নানা প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না দেশটির সরকার। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিয়ের নিবন্ধন প্রায় ১০ শতাংশ কমে যাওয়ায় আগামী বছর জন্মসংখ্যা আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চীনের বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ৪৬ লাখ ৪৮ হাজার বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৫ লাখ ৪ হাজার কম, যা প্রায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
জনসংখ্যাবিদদের আশঙ্কা, বিয়ের হার কমে যাওয়ার প্রভাব পড়বে জন্মসংখ্যায়। দেশটিতে অধিকাংশ শিশুর জন্ম বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে হওয়ায় এ প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জনসংখ্যাবিদ হে ইয়াফুর ধারণা, বছর শেষে বিয়ের নিবন্ধন আরও কমতে পারে। এর প্রভাব পড়বে ২০২৭ সালের জন্মহারে।
জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে চীনে ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৯৫ লাখ ৪০ হাজার। এক বছরে জন্মসংখ্যা কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। জন্মহার নেমেছে প্রতি হাজারে ৫ দশমিক ৬৩ জনে, যা ১৯৪৯ সালের পর সর্বনিম্ন।
এদিকে ২০২৫ সালে দেশটির জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৯০ হাজার কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি ৫০ লাখে। টানা চতুর্থ বছর জনসংখ্যা কমেছে চীনে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সন্তান লালন-পালনে ভর্তুকি, শিক্ষা সহায়তা ও বিয়েতে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, পেশাগত অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতায় তরুণদের সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমার পাশাপাশি বয়স্ক মানুষের চাপ বাড়বে, যা অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
জা.অর্থনীতি/এসআই
