ভুটানকে হারিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের

একের পর এক আক্রমণ, সুযোগ তৈরি, প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ-সবই ছিল। ছিল না শুধু গোল। শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন বদলি হিসেবে নামা মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তাঁর একমাত্র গোলেই ভুটানকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর শুরু করেছে বাংলাদেশ।

 

আজ বৃহস্পতিবার পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ভুটানকে চাপে রাখে স্বাগতিকেরা। দুই দলের সাম্প্রতিক শক্তির পার্থক্য এবং সাফে বাংলাদেশের আগের আধিপত্যের কারণে প্রত্যাশাও ছিল বড়। ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাফে আগের সাত দেখায় ভুটানের বিপক্ষে ছয়বার জিতেছে বাংলাদেশ, অন্য ম্যাচটি হয়েছিল ড্র। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল জামাল ভূঁইয়ার দল।

 

শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ১৭ মিনিটে রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে বিশ্বনাথের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৫ মিনিটে ফাহিমের শট ঠেকিয়ে দেন ভুটানের গোলরক্ষক। ফিরতি বলে সমিতের প্রচেষ্টাও আটকে যায় রক্ষণে। একই মিনিটে জটলার মধ্যে বিশ্বনাথের আরেকটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ৩৯ মিনিটে রাকিবের চমৎকার পাসে আবারও সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ, কিন্তু তাঁর শট চলে যায় পোস্টের পাশ দিয়ে। প্রথমার্ধে ১২টি শট নিয়েও গোলশূন্য থাকতে হয় বাংলাদেশকে।

 

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণের ধার কিছুটা কমে যায়। বরং এই সময়ে মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভুটান। ৪৫ থেকে ৬৪ মিনিট পর্যন্ত তাদের কয়েকটি আক্রমণ বাংলাদেশের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে কোচ ডুলি বদলি নামান সোহেল রানা ও মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। জামাল ভূঁইয়া ও বিশ্বনাথকে তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।

 

৬৫ মিনিটে মাঠে নেমেই আক্রমণে গতি বাড়ান বদলি খেলোয়াড়েরা। ফাহামেদুল ইসলামের বাঁ প্রান্ত ধরে এগিয়ে গিয়ে নেওয়া শট ফিরিয়ে দেন ভুটানের গোলরক্ষক গিয়েলশেন জাংপো। তিন মিনিট পর আবারও আক্রমণ। জায়ানের লম্বা বল থেকে রাকিবের হেড, এরপর সমিতের ফিরতি হেড প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে চলে আসে ইব্রাহিমের কাছে। বক্সের ভেতর পাওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি তিনি। ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন ফর্টিস এফসির এই ফরোয়ার্ড।

 

গোলের পর বাংলাদেশের খেলায় আসে স্বস্তি। এতক্ষণ যে সুযোগগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছিল না, অবশেষে তার একটি পরিণতি পেল জালে। বাকি সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ না এলেও এক গোলের লিড ধরে রাখতে সমস্যা হয়নি স্বাগতিকদের। শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

 

এর আগে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল টুর্নামেন্টের মাঠের লড়াই। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় সেই ম্যাচের পর। সন্ধ্যার জমকালো আয়োজনে ট্রফি উন্মোচন করেন ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের সদস্য ও বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আতশবাজির আলোয় শুরু হওয়া উৎসবের পূর্ণতা আসে বাংলাদেশের জয়ে। দিনের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল ভারত।

 

ভুটানকে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপে তাদের পরের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। আগামী ১১ নভেম্বর সেই ম্যাচে মাঠে নামবে জামাল ভূঁইয়ার দল। তার আগে ৮ নভেম্বর ভুটানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। সাফের শুরুটা জয় দিয়ে হলেও বাংলাদেশের সামনে এখন লক্ষ্য থাকবে এই ছন্দ ধরে রেখে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করা।