ইরানের সুপ্রিম লিডারের ক্ষমতা কতটা, প্রেসিডেন্ট কি তার অধীন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অনেক দেশে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান ক্ষমতাধর ব্যক্তি হলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো কিছুটা ভিন্ন। দেশটিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সরকার পরিচালনা করেন, কিন্তু রাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব, দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সর্বোচ্চ নেতার ব্যাপক কর্তৃত্ব রয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ইরানের শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতার মূল ভিত্তি দেশটির সংবিধান। বিশেষ করে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদে তার দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামরিক নেতৃত্ব
সর্বোচ্চ নেতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সাধারণ নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের তদারকি করা। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তার প্রভাব রয়েছে। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতাও তার হাতে।

সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ও শান্তি ঘোষণা এবং সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় করার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ নেতার কর্তৃত্ব রয়েছে। ফলে বড় ধরনের সামরিক ও নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কোথায় সীমাবদ্ধ
ইরানের প্রেসিডেন্ট জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। তিনি সরকার পরিচালনা, মন্ত্রিসভা গঠন, বাজেট প্রস্তাব এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেন। তবে সর্বোচ্চ নেতার নির্ধারিত সামগ্রিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংবিধানের ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাহী বিভাগের প্রধান হলেও সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি অধীন বিষয়গুলো প্রেসিডেন্টের সাধারণ নির্বাহী দায়িত্বের বাইরে।

বিচার বিভাগ ও নির্বাচনেও প্রভাব
সর্বোচ্চ নেতা বিচার বিভাগের প্রধান নিয়োগ করেন। এ ছাড়া গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ছয়জন ধর্মীয় সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা তার রয়েছে। এই কাউন্সিল সংসদে পাস হওয়া আইন পর্যালোচনা এবং নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কীভাবে নির্বাচিত হন সর্বোচ্চ নেতা
সংবিধানের ১০৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদ সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। পরিষদের সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও তাদের প্রার্থিতার যোগ্যতা যাচাইয়ে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ভূমিকা রয়েছে। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হারালে বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে অপসারণ করতে পারে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ২ মার্চ ২০২৬-এ হালনাগাদ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। এ পদে নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার বিস্তৃত সাংবিধানিক ক্ষমতা বজায় রয়েছে।

জা.অর্থনীতি/এসআই