দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজের খোঁজে চীনা রোবট

প্রযুক্তি ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে নিজেদের বাণিজ্যিক বিস্তার বাড়াতে কারখানায় ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেছে চীনের তৈরি হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবটগুলো। দক্ষিণ কোরিয়া ফিজিক্যাল এআইতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন কারখানা ও ক্যাফেতে নিজেদের রোবট পরীক্ষা করছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

হংকংয়ের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইউবটেক রোবটিক্স, স্টার্টআপ এনিভার্স ডায়নামিকস, সাংহাইভিত্তিক এজিবট এবং ইউনিট্রি রোবটিক্সের মতো বেশকিছু প্রভাবশালী চীনা প্রতিষ্ঠান চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে। নাচ পরিবেশন বা শোরুমে প্রদর্শনের দিন পেরিয়ে এখন সরাসরি কারখানার উৎপাদন লাইন এবং বাণিজ্যিক সেবায় রোবট নামানোর দৌড়ে নেমেছে কোম্পানিগুলো।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রোবটিক্স বিষয়ক সহযোগী পরিচালক ইথান কি জানান, চীনের নতুন প্রজন্মের রোবট কোম্পানিগুলো এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের বিস্তার ঘটাতে চায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানীয়ভাবে বড় পরিসরে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় চীনা সরবরাহকারীদের জন্য এই বাজারে প্রবেশ করা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ফিজিক্যাল এআই বা বাস্তবভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে শক্তিশালী করতে ২০২৭ সালের জন্য ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ওন অর্থায়নের প্রস্তাব করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৫০০টি এআই কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চলতি বছর দেশটির বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদ মন্ত্রক এআই রূপান্তরের জন্য ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ওন বাজেট বরাদ্দ করেছে। ভিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মোট বিনিয়োগের ৪৫ শতাংশই এসেছে এআই এবং রোবটিক্স খাত থেকে।

তবে এই খাতের স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। দেশটির জাতীয় সংসদের এক অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে গত বছর হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের দিক থেকে শীর্ষ ছয়টি স্থানই দখল করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি বিশ্বে হিউম্যানয়েড সংক্রান্ত পেটেন্টের প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশই চীনের দখলে, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ হার্ডওয়্যার বা রোবট তৈরির সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের বড় একটি অংশ পর্যাপ্ত বিদেশি বিনিয়োগ পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে সরকারি নীতি ও দেশীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের কথা বলা হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক ক্রেতা ও উদ্যোক্তা কম খরচে উন্নত প্রযুক্তির টানে চীনা রোবট নির্মাতাদের সঙ্গেই কাজ করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে প্রবেশ করতে গিয়ে চীনা প্রস্তুতকারকদেরও কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশটির কঠোর সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় সঠিক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি বেশ জটিল। তা সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিজিক্যাল এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তাতে চীনের মানবাকৃতির রোবটগুলোর এই কাজের খোঁজ বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে এক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দিয়েছে।