বিমা খাতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা বিএফআইইউর

জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এতে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে জারি করা এ নির্দেশনায় বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে শাখা ও ইউনিট পর্যায় পর্যন্ত পরিপালন কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করতে হবে। এ নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার। পাশাপাশি প্রতিবছর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এজেন্টদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জানাতে হবে তাঁকে।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন করতে হবে। এ ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (সিএএমএলসিও)। প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমের তদারকি করবে ইউনিটটি।

কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটকে প্রতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি, মূল্যায়ন ও সুপারিশ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। প্রধান নির্বাহীর মতামতসহ প্রতিবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে। এর একটি অনুলিপি পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।

শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়েই নয়, শাখা ও ইউনিট পর্যায়েও পরিপালন কার্যক্রম নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শাখা ও ইউনিটে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। বিমা এজেন্টদের ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোনয়ন করতে হবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজের মধ্যে থাকবে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, বিমা পলিসিসংক্রান্ত লেনদেন পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও প্রতিবেদন তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাঁদের পালন করতে হবে।

গ্রাহক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেনামে বা ছদ্মনামে বিমা পলিসি খোলা কিংবা পরিচালনা করা যাবে না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সত্তা এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার নামেও বিমা পলিসি খোলা বা পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় গ্রাহকের সংজ্ঞাও বিস্তৃতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পলিসিধারীর পাশাপাশি পলিসির প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পক্ষে পলিসি পরিচালনাকারীকেও গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে বিএফআইইউ। নির্দেশনায় দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত বিধান যথাযথভাবে পরিপালনের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

—জা.অর্থনীতি/আরএস