ক্রীড়া প্রতিবেদক: আবুধাবির প্রচণ্ড গরমে টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়ানোয় মাঠে টিকে থাকাই ছিল ক্রিকেটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে একটি ইনিংস খেলতে হবে কৃত্রিম আলোয়। তাতে গরমের সঙ্গে লড়াইয়ের চাপ কিছুটা কমবে। আর এই স্বস্তিকে কাজে লাগিয়ে আরেকটি ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
আজ শনিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। তার আগে অনুশীলনের ফাঁকে আবহাওয়া ও কন্ডিশনের পার্থক্য নিয়ে কথা বলেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। টেস্টের তুলনায় ওয়ানডে সিরিজে পরিবেশ কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। মোসাদ্দেক বলেন, ‘টেস্টের চেয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের কন্ডিশন আলাদা হবে। এখানে বিকালে খেলা শুরু আর একটা ইনিংস হবে রাতে। তাই কন্ডিশন একদম গরম হবে না যেমনটা টেস্টে ছিল।’
তবে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের সবার পরিস্থিতি এক নয়। যারা টেস্টের আগে থেকেই আবুধাবিতে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়েছে। অন্যদিকে এশিয়ান গেমস খেলে আসা ক্রিকেটারদের দ্রুত নিজেদের প্রস্তুত করতে হচ্ছে। মোসাদ্দেকের আশা, পুরো ম্যাচ দিনের আলোয় না হওয়ায় অতিরিক্ত গরমের ধকল কিছুটা এড়ানো যাবে।
জাতীয় দলের এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, ‘যারা টেস্টের অনেক আগে এসেছে তাদের জন্য এই কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া এখন সহজ হয়েছে। আর আমরা যারা এশিয়ান গেমস খেলে এসেছি তাদের এখন দ্রুত মানিয়ে নিতে হচ্ছে। খেলাটা পুরোপুরি দিনে না হওয়ায় অত্যধিক গরম থেকে বাঁচব। তবুও যে কন্ডিশন হোক আমাদের সেরা খেলাটা দিতে হবে যেনো আরেকটি ট্রফি জিততে পারি।’
এই সিরিজকে কেবল আরেকটি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন না মোসাদ্দেক। সামনে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ। বড় দুই টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত এই আসরকে।
এ প্রসঙ্গে ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেবার শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই স্মৃতি এবারও দলকে অনুপ্রাণিত করতে পারে বলে বিশ্বাস মোসাদ্দেকের। তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজ আমাদের জন্য একটা অনুপ্রেরণা। সামনে এশিয়া কাপ, এরপর বিশ্বকাপ। এই ত্রিদেশীয় সিরিজগুলো জিততে পারলে আমার কাছে মনে হয়, আমরা সামনে অনেক আত্মবিশ্বাস পাব।’
তবে ট্রফির স্বপ্ন দেখলেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। আধুনিক ক্রিকেটে দলগুলোর মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রতিটি দলই ভালো করছে বলে মনে করেন তিনি। মোসাদ্দেক বলেন, ‘আধুনিক ক্রিকেটে কোনো দলকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আধুনিক ক্রিকেটে কোনো দেশ বা দলকেই ছোট বলা যাবে না। সাম্প্রতিক সময়ে সবাই ওয়ানডে ফরম্যাটে খুব ভালো করছে।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য নিজেদের খেলায় উন্নতি আনা। মোসাদ্দেকের মতে, এখানে ভালো করতে পারলে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের কঠিন পরিস্থিতি সামলানো সহজ হবে। এই প্রতিযোগিতাকে নিজেদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ, এখানে আমরা কত ভালো করতে পারি। এশিয়া কাপ কিংবা এশিয়া কাপের পরে বিশ্বকাপে যে চ্যালেঞ্জ আসবে, এই সময়গুলোতে দল হিসেবে ভালো করতে পারলে সেগুলো আমাদের জন্য সহজ হবে।’
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় সমন্বয়কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মোসাদ্দেক। তার মতে, মাঠে সম্মিলিতভাবে ভালো খেলতে পারলেই প্রমাণ হবে বাংলাদেশের সামর্থ্য। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মাঠের ক্রিকেটটা ভালো খেলতে পারি, সেটা অনেক কিছুই প্রমাণ করে দেবে, আমরা কতটা ভালো দল। সেই জায়গা থেকে আমাদের সবাইকে মিলে প্রমাণ করতে হবে, দল হিসেবে আমরা কত ভালো খেলতে পারছি। ক্রিকেট কোনো ব্যক্তিগত খেলা নয়, এটা পুরোপুরি দলীয় খেলা। তাই দল হিসেবে আমরা কতটা ভালো করতে পারছি, সেটাই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
আজ রাতে কৃত্রিম আলোয় আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৯ অক্টোবর আবুধাবিতে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে লড়াইয়ের পর ২১ অক্টোবর শারজায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। ২৩ অক্টোবর একই ভেন্যুতে হবে ফাইনাল। এই সিরিজ শেষ করেই ২৮ অক্টোবর থেকে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। ফলে ট্রফি জয়ের পাশাপাশি নিজেদের প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস ঝালিয়ে নেওয়ারও বড় সুযোগ লিটনদের সামনে।
বাংলাদেশ দল
লিটন দাস (অধিনায়ক), তাওহীদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও আলিস আল ইসলাম।