বস্ত্র খাতে ভর করে ঘুরে দাঁড়াল পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ঘনিয়ে আসায় দেশের পুঁজিবাজারে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। সাম্প্রতিক দরপতনের পর তুলনামূলক কম দামে থাকা শেয়ারে কেনাকাটার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য আয় ও লভ্যাংশের হিসাব করে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে জুন-সমাপ্ত কোম্পানির বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন এবং সেপ্টেম্বর-সমাপ্ত কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে বাজারে স্টকভিত্তিক আগ্রহ বাড়ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবারের লেনদেনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৫২ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্টে উঠেছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৫টি কোম্পানির মধ্যে ২৪০টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৯০টির। ফলে আগের কয়েক দিনের তুলনায় বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ স্পষ্টভাবে বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সামনে আসা আর্থিক ফলাফল এখন বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জুন-সমাপ্ত কোম্পানি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য পর্ষদ সভার তারিখ জানিয়েছে। একই সময়ে সেপ্টেম্বর-সমাপ্ত কোম্পানিগুলো তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে প্রত্যাশিত ভালো ফল করতে পারে এমন কোম্পানির শেয়ারে আগেভাগে অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে আগের বছরের তুলনায় আয় ও শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন কোম্পানির প্রতি নজর বাড়ছে। পাশাপাশি নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোও বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় রয়েছে। তবে আর্থিক ফল প্রকাশের আগে প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো শেয়ারে অতিরিক্ত দরবৃদ্ধি হলে ফল প্রকাশের পর সেটিতে মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপও তৈরি হতে পারে।

খাতভিত্তিক লেনদেনেও আর্থিক ফলকেন্দ্রিক আগ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে। বৃহস্পতিবার বস্ত্র খাতে মোট লেনদেনের ২৪ দশমিক ৭০ শতাংশ হয়েছে। এ খাতে সায়হাম টেক্সটাইল ও এনভয় টেক্সটাইল ছিল সক্রিয়। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ২৪ লাখ টাকার মতো আর সাধারণ বিমা খাতে লেনদেন হয়েছে ৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। মিউচুয়াল ফান্ডেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য।

একক শেয়ারের মধ্যে সায়হাম টেক্সটাইল সর্বোচ্চ ৩০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার টাকার লেনদেন নিয়ে শীর্ষে ছিল। কোম্পানিটির শেয়ারদর দিনশেষে ৪৬ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এদিন সায়হাম টেক্সটাইলে আরও ১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার ব্লক লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া সোনালী আঁশের শেয়ারদর অবশ্য ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ২৩৮ টাকা ৪০ পয়সায় নেমেছে। অন্যদিকে ফার ইস্ট নিটিংয়ের শেয়ারদর ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে দিনের সর্বোচ্চ মূল্যসীমায় পৌঁছেছে।

বাজারে আর্থিক ফলাফলকেন্দ্রিক আগ্রহের সঙ্গে লভ্যাংশের প্রত্যাশাও যুক্ত হয়েছে। জুন-সমাপ্ত কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সাধারণত ওই বছরের লভ্যাংশের সুপারিশও আসে। তাই ইপিএস, সম্পদমূল্য ও নগদ প্রবাহের পাশাপাশি সম্ভাব্য লভ্যাংশের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

তবে বাজারে নতুন অর্থপ্রবাহ এখনো খুব শক্তিশালী নয়। বৃহস্পতিবার প্রধান বাজারে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ লেনদেন বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ এখনও বাছাই করে শেয়ারে অবস্থান নিচ্ছেন। একইসঙ্গে ব্লক মার্কেটে সায়হাম টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সোনারগাঁও ও অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের মতো শেয়ারে বড় লেনদেন হয়েছে।

আগামী কয়েক সপ্তাহে একের পর এক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হতে পারে। ভালো ফল করা কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ার পাশাপাশি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ফল প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে বিক্রির চাপও তৈরি হতে পারে। ফলে সামনে বাজারে সূচকের চেয়ে কোম্পানিভিত্তিক আর্থিক ফলাফলই শেয়ারের দামের গতিপথ নির্ধারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।