মস্কো চেম্বারে প্রকল্প নিয়ে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক প্রকল্প নিয়ে সরাসরি মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি ভ্লাদিমির প্লাতোনভ। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়িক ধারণাকে বাণিজ্যিকভাবে সফল প্রকল্পে রূপ দিতে এবং উদ্যোক্তা হওয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে চেম্বার তাদের সহযোগিতা করবে।

সম্প্রতি রাশিয়ার একতেরিনবুর্গে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক যুব ফোরকের ফাঁকে পডকাস্ট ‘সাগর'স কর্নার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্লাতোনভ। তিনি রুশ ভাষায় কথা বলেন। আর ইংরেজিতে দোভাষীর দায়িত্ব পালন করেন মস্কো চেম্বারের বিশেষজ্ঞ ইঙ্গা কোরিয়াগিনা।

প্লাতোনভ বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যেন মস্কো চেম্বার অব কমার্সে এসে নিজেদের ব্যবসায়িক প্রকল্প তুলে ধরেন, সেই আমন্ত্রণ তারা আন্তরিকভাবে জানাচ্ছেন। ব্যবসার সুযোগ বাড়াতেও তাদের সহায়তা করার কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ রাশিয়া ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক কীভাবে আরও ফলপ্রসূ করা যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে প্লাতোনভ সোভিয়েত আমল থেকে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতার ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, যেকোনো উন্নয়নের ভবিষ্যৎ থাকতে হয়, আর সেই ভবিষ্যৎ হলো তরুণ প্রজন্ম।

রাশিয়ার পিপলস’ ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী প্লাতোনভ বলেন, বিভিন্ন দেশের তরুণদের এক জায়গায় নিয়ে আসার গুরুত্ব তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝেন। তার মতে, যেকোনো দেশের শিক্ষার্থী নিজের ধারণা নিয়ে এসে সেটিকে আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক প্রকল্পে রূপ দিতে পারেন—মস্কো চেম্বার এখন সেই পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।

গত ৩০ বছরে রাশিয়ায় বাজার অর্থনীতি গড়ে ওঠার যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা শেখাতেও চেম্বার সহযোগিতা করতে পারে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের তরুণ ব্যবসায়ীরা কীভাবে সহজে রাশিয়ায় রপ্তানি-আমদানি করতে এবং দেশটির বাজার খুঁজে পেতে পারেন—এ প্রশ্নের জবাবে প্লাতোনভ বলেন, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ ও বড় শহরে চেম্বার অব কমার্স রয়েছে। এই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মস্কো চেম্বার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে পারে।

তাই ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নিজ দেশের চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং গ্লোবাল সাউথে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে প্লাতোনভ দাবি করেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রাশিয়াকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া এখন আবার ক্রেতার দেশ থেকে উৎপাদকের দেশে ফিরে যাচ্ছে—পেরেক থেকে শুরু করে মহাকাশ উপগ্রহ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের জন্য নয়, বরং নতুন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে যেসব দেশ একসঙ্গে কাজ করছে, রাশিয়া তাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও এবং ব্রিকসের কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে মস্কো চেম্বারের সভাপতি বলেন, সরকার আসে, সরকার যায়। তবে কোনো সরকার সফল হতে চাইলে মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মানুষের প্রয়োজন হলো পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া।

সাক্ষাৎকারের শেষে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতায় সাফল্য কামনা করেন প্লাতোনভ। এ সময় তাঁকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র একতারা উপহার দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্কের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পরদিন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

এ ছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম পাবনার রূপপুরে দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। প্রকল্পটির ব্যয় ১ হাজার ২৬৫ কোটি ডলার। এর ৯০ শতাংশই রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ঋণ।

পুরো সাক্ষাৎকারটি ‘সাগর'স কর্নার — কনভারসেশনস বিয়ন্ড বর্ডার্স’-এর ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে দেখা যাচ্ছে। দেখতে ক্লিক করুন https://youtu.be/bR2Z65vjS8w