'মেসিকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব, অনেক চুমু দেব '

একটি যুগের অবসান। ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আলোয় ইতি টানতে চলেছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিন জাতীয় ফুটবল দলের বিপক্ষে ম্যাচটি কেবল একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলের এক অবিসংবাদিত বরপুত্রের শেষ নৃত্য। লাখো ভক্তের দীর্ঘশ্বাস আর ভালোবাসায় সিক্ত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি পরিণত হয়েছে বছরের সবচেয়ে আবেগঘন ক্রীড়া ইভেন্টে।

 

২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল এবং ৬৫-র বেশি অ্যাসিস্ট—সংখ্যার খাতা হয়তো এখানেই থেমে যাবে। কিন্তু কোটি ভক্তের হৃদয়ে তিনি চির অমর। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, 'যদি পাঁচটি মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামও থাকত, সেগুলোও দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যেত। সব জায়গা থেকেই মেসেজ পেয়েছি। আমার মনে হয় যা বলার সবই বলা হয়ে গেছে; এখন শুধু সময়টা উপভোগ করার বাকি। সে চলে যাওয়ার পর যে নস্টালজিয়ার কথা আমরা সব সময় বলি, এখন সত্যিই সে আর জাতীয় দলে থাকবে না। আমার ধারণা সবাই বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন—এমনকি সে নিজেও।'

 

আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে মেসিকে রাজকীয় ও স্মরণীয় বিদায় জানাতে কোনো ত্রুটি রাখতে চাইছে না পুরো দল। সতীর্থদের ভাবনা ঠিক কী, তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন দলের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেস। তিনি বলেন, 'আমরা চেষ্টা করব, সে যেন যতটা সম্ভব মুহূর্তটি উপভোগ করতে পারে। তাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব, অনেক চুমু দেব এবং তাকে খুশি রাখার চেষ্টা করব।' 

 

বুয়েন্স আয়ার্সের বাতাস ভারী বিষাদ আর উদযাপনের মিশ্র আবহে। মনুমেন্তালের ঘাসফুলে মেসির বুটের শেষ স্পর্শ আর কোটি ভক্তের চোখের কোণে জমে থাকা জল মিলিয়ে তৈরি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের এক অনন্য কাব্য। কিংবদন্তিকে, সবাই একটি কথা বলতে প্রস্তুত, বিদায়, ফুটবল জাদুকর!