সিইও এর পদ না পেয়ে যা করলেন নারী, শেষে কিনে নেন পুরো কোম্পানি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে পারলে দেওয়া হবে শীর্ষ পদ—এমনই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাকে। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে রাতদিন এক করে কাজ করলেন। তিন বছরের মধ্যে বন্ধপ্রায় ব্যবসাকে ফেরালেন সাফল্যের তুঙ্গে, কোম্পানির শেয়ারের দাম করে তুললেন দ্বিগুণ। কিন্তু যখন নিজের প্রাপ্য পাওনা অর্থাৎ সিইওর পদ চাওয়ার সময় এলো, তখন উত্তর এলো সরাসরি 'না'। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, এই পদে তাকে কোনোদিনই বসানো হবে না এবং এর কোনো ব্যাখ্যাও তাকে দেওয়া হবে না।

অন্যায়ের প্রতিবাদে কাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সেই নারী। তবে এটি কোনো পরাজয়ের গল্প নয়, বরং এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সূচনা। সিইও পদের জন্য যাকে দেওয়া হয়েছিল 'না', কয়েক বছর পর সেই নারীই আড়াই বিলিয়ন ডলারে কিনে নিলেন পুরো কোম্পানিকে! আর নতুন মালিক হয়েই চাকরি থেকে বরখাস্ত করলেন তাকে প্রত্যাখ্যান করা সেই সাবেক বসকে।

ব্যবসায়িক বিশ্বের সাড়া জাগানো এই সাহসী নারী জুলিয়া স্টুয়ার্ট। ২০০০-এর দশকের শুরুতে যখন তিনি আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁ চেইন 'অ্যাপলবি'-র প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন, তখন প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা ভালো ছিল না। তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল ব্যবসা ঘোরাতে পারলে সিইও করা হবে। কঠোর পরিশ্রমে তিনি কোম্পানিকে লাভের মুখ দেখান। কিন্তু সিইও ও চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠকে গিয়ে পেলেন চরম হতাশা। অপমান আর হতাশা নিয়ে পরদিনই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন জুলিয়া। দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি যোগ দেন পিছিয়ে পড়া আরেক ব্র্যান্ড 'আইএইচওপি'-তে।

আইএইচওপিতে গিয়েও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন জুলিয়া। সেখানে পাঁচ বছর কাজ করে ব্যবসা দাঁড় করান এক মজবুত ভিত্তির ওপর। তবে তার লক্ষ্য ছিল আরও বড়। আইএইচওপির বাজার আরও বড় করতে তিনি নতুন একটি প্রতিষ্ঠান কেনার সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই অনুসন্ধানেই উঠে আসে পুরোনো কর্মস্থল অ্যাপলবির নাম!

সব প্রস্তুতি শেষে ২.৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে পুরো অ্যাপলবি কোম্পানিটি কিনে নেয় জুলিয়ার আইএইচওপি। অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হতেই জুলিয়া ফোন করেন অ্যাপলবির সেই তৎকালীন সিইওকে। ঠান্ডা মাথায় জানিয়ে দেন, কোম্পানি এখন তাদের এবং এই প্রতিষ্ঠানে দুজন শীর্ষ নেতার প্রয়োজন নেই! তাৎক্ষণিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সেই সাবেক বসকে।

এই সাহসিকতার জন্য জুলিয়া স্টুয়ার্টকে 'স্টোন-কোল্ড কিলার' নামে ডাকা হয়। প্রতিশোধ নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম ও আত্মমর্যাদার জোরে দেওয়া এই জবাব আজ ইতিহাসের অংশ।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি