রাতে বিদ্যুৎ ছিল না, সকালে মিলল ১৯০টি মৃত মুরগির বাচ্চা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

বরগুনা প্রতিনিধি: দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সঠিক ব্রুডিং ও প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখতে না পেরে তালতলীতে ১৯০টি সোনালী/বনরাজা জাতের মুরগির বাচ্চা মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট পোল্ট্রি খামারি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী বাজারের ‘রাফি পোল্ট্রি ফার্মে’ এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি রফিক মিয়া জানান, দুই দিন আগে স্থানীয় ডিলারের মাধ্যমে ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৬৬০টি বনরাজা জাতের মুরগির বাচ্চা কিনে খামারে তোলেন তিনি। সদ্য আনা বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধিতে কৃত্রিম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখার নিয়ম। তবে মঙ্গলবার পুরো রাতে দফায় দফায় গড়ে মাত্র চার ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় বিকল্প তাপ ব্যবস্থা না পেয়ে এবং প্রচণ্ড ঠান্ডায় সকালে গিয়ে ১৯০টি বাচ্চার নিথর দেহ মেলে। প্রতিটি বাচ্চা ৭০ টাকা দরে কেনায় তার সরাসরি ১৩ হাজার ৩০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলায় বিদ্যুৎ সংকটের সত্যতা স্বীকার করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তালতলী সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) মো. মোতাহার উদ্দিন জানান, তালতলীতে ৫ থেকে সাড়ে ৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে খামারিদের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে কেবল বিদ্যুৎ না থাকাই মৃত্যুর মূল কারণ কি না, তা পরীক্ষা সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সিকদার। তিনি জানান, ব্রুডিং সমস্যা, বাতাস চলাচলের বাধা বা পানিশূন্যতাসহ নানা কারণে সদ্য ফোটা বাচ্চা মারা যেতে পারে। পরীক্ষার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি