সাতক্ষীরায় পটকা মাছ খেয়ে গৃহকর্তার মৃত্যু
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিষাক্ত টিপা (পটকা) মাছের তরকারি খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক গৃহকর্তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন সদস্য মারাত্মক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বড়দল গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুদি ব্যবসায়ী আজহারুল ইসলাম (৫৫)। তিনি বড়দল গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে স্থানীয় বাজার থেকে টিপা মাছ কিনে বাড়িতে পাঠান আজহারুল ইসলাম। দুপুরে পরিবারের সদস্যরা ওই মাছ রান্না করে এক সাথে আহার করেন। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তীব্র বিষক্রিয়ায় সবাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনেরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

বিষক্রিয়ায় গুরুতর অসুস্থ পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন- নিহতের স্ত্রী ময়না বেগম, মেয়ে সোনালী (১১), ছেলে রমিম (৭) এবং মা রাশিদা বেগম (৬৫)। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলাদার জানান, পটকা মাছে অত্যন্ত মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান ‘টেট্রোডোটক্সিন’ থাকে, যা মানবদেহের জন্য প্রাণঘাতী। এ কারণে সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। তবে বড়দলের এই সুনির্দিষ্ট ঘটনাটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, বিষাক্ত মাছ খেয়ে মৃত্যুর খবর তিনি পেয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি