মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: "দিনে প্রচণ্ড গরম, তাই রাতে কাজে যাচ্ছি। কাজ শেষে ফিরে কল দিয়ে কথা বলব"- শনিবার রাত ৮টায় স্ত্রী সুলতানা বেগমকে বলা এই শেষ বাক্যটিই কাল হলো কাতারপ্রবাসী আজম মিয়ার (৩৫) জীবনে। স্ত্রীকে দেওয়া কথা আর রাখা হয়নি তার; তার আগেই বহুতল ভবন থেকে রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে প্রাণ গেছে এই প্রবাসীর। এই খবরের পর থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লক্ষ্মীপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কাতারপ্রবাসী স্বজনেরা বিষয়টি পরিবারকে অবহিত করেন।
পারিবারিক ও প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, কাতারের দোহায় একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন আজম। শনিবার রাতের শিফটে উঁচু ভবনে কাজ করার সময় হঠাৎ ঝুলন্ত রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যান তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই আজম মারা যান এবং সাথে থাকা অপর দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে কাতার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বজনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। প্রায় ৫-৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে কাতার পাড়ি দিয়েছিলেন আজম। দুই বছর আগে তিন মাসের ছুটিতে শেষবারের মতো বাড়ি এসেছিলেন তিনি।
নিহতের বড় ভাই মাতাব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমরা চার ভাই আলাদা থাকি। আজমের উপার্জনেই তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও চার বছর বয়সী ছোট মেয়েটির সংসার চলত। এখন এই এতিম বাচ্চাগুলোকে নিয়ে তারা কীভাবে বাঁচবে?"
স্বামীর মৃত্যুর শোক মেনে নিতে পারছেন না স্ত্রী সুলতানা বেগম। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, "রাতে কল দিলে বলছিল কাজ শেষে ফিরা কল দেবে। এরপর আর ফোন ধরে নাই। সকালে শুনি আমার মানুষটাই আর নেই। অবুঝ বাচ্চাগুলো বাবার জন্য কাঁদছে, আমি তাদের কী জবাব দেব?"
খবর পেয়ে আজ সকালে নিহতের বাড়িতে যান কুলাউড়া সদর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রুশন মিয়া। তিনি বলেন, "আজমের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে। পরিবারটি এখন চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়ল। লাশটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।"
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি- আজমের মরদেহ যেন দ্রুত সরকারি সহায়তায় শেষবারের মতো দেশে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
