আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং চাপে পড়েছে মার্কিন শেয়ারবাজার।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে তা ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে স্থির হয়। মে মাসের পর এটিই তেলের সর্বোচ্চ দাম। জুলাইয়ের শুরুতে যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭২ ডলারের নিচে ছিল, সেখান থেকে এ পর্যন্ত দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খরচেও। দেশটিতে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ২৮ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পণ্য ও ভোক্তা পর্যায়েও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাইকারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি গত মাসে বেড়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। কর্মসংস্থানের বাজার তুলনামূলক শক্ত থাকায় আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে-এমন সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।
সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশায় ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশে উঠেছে। এতে ঋণের খরচ বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারে বিনিয়োগের আকর্ষণও কমেছে।
বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৭,৫৯১ দশমিক ৭০ পয়েন্টে নেমেছে। ডাও জোন্স কমেছে ৩১৬ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট এবং নাসডাক কমেছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। এ নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো পতন হয়েছে মার্কিন শেয়ারবাজারে।
সূত্র: রয়টার্স
জা.অর্থনীতি/এসআই
