দুর্নীতি-অনিয়মে বরখাস্ত কর্মকর্তা ৭ বছর পর পুনর্বহাল
ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির পরিচালক পদে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে আগে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হওয়া রামকান্ত সিংহকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনিক দুর্নীতির দায়ে বরখাস্তকৃত ব্যক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে পদায়নের এই ঘটনায় সুশীল সমাজ ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে রামকান্ত সিংহকে চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ প্রদান করা হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নথি সূত্রে জানা যায়, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক থাকাকালে রামকান্ত সিংহের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম, দাপ্তরিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দায়িত্বে চরম গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ২ মে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং একই বছরের ৬ নভেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ২০১৯ সালের ১৩ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্তের পর রামকান্ত সিংহ চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-৩ এ পৃথক দুটি মামলা (মামলা নং-৪০৯/২০১৯ ও ৭১/২০২১) দায়ের করেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন চূড়ান্ত বরখাস্ত কর্মকর্তা একই সরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে পুনর্নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির নবনিযুক্ত পরিচালক রামকান্ত সিংহের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি যানজটে থাকার অজুহাত দেখিয়ে মামলা বা অনিয়মের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এদিকে প্রশাসনিকভাবে বিতর্কিত এ নিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বরখাস্তের সাত বছর পর বিতর্কিত এই পদে নিয়োগের নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি