সবজি চাষে খরচের বোঝা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে এখন মাঠজুড়ে শীতকালীন সবজির সমারোহ। কোথাও ক্ষেতের পর ক্ষেত সবুজ চাদরে ঢাকা পড়েছে। আবার কোথাও জমি প্রস্তুত শেষে বীজ বপন ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে সবুজের এই অগ্রগতি ধরে রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। কারণ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম। 

জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরের বাড়ি গ্রামের চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, গতবার ফুলকপির এক প্যাকেট বীজ কিনেছিলাম ১ হাজার ২০০ টাকায়। এবার একই বীজ কিনতে হয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। এর সঙ্গে বাঁশ, শ্রমিক ও পলিথিনের দামও বেড়েছে। ডিজেল-পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধিতে সেচ খরচও বেড়েছে। এত খরচের পর সবজি বিক্রি করে লাভ হবে কি না, তা নিয়েই ভাবছি। রফিকুল ইসলামের মতো একই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন মীরেরবাড়ি গ্রামের খবির উদ্দিনের ছেলে কামাল ও গোলজার খন্দকারের ছেলে রাকিব খন্দকারসহ অন্য কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, মৌসুম এলেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে সবজি চাষের বাড়তি খরচ সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, সরকারের কঠোর তদারকির মাধ্যমে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একই সঙ্গে সার, বীজ ও কীটনাশকের সংকট দূর করে এসব উপকরণের সহজ লভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মীরের বাড়ি গ্রামের প্রবীণ চাষি গোলজার খন্দকার বলেন, সবজিই এ গ্রামের কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল। একেকজন কৃষক ১ থেকে ৪/৫ একর জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, বরবটি, গাজর, টমেটো, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বড় সমস্যা হলো, চাইলেই সার পাওয়া যায় না। ডিলাররা সার নেই বলে জানান। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এছাড়া আগাম সবজি চাষে বেশি পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাজারে কীটনাশকের দামও বেড়েছে। খেদাবাগ গ্রামের বর্গাচাষি মনিরুজ্জামানের ছেলে মোকছেদুল বলেন, এক প্যাকেট ফুলকপির বীজে খরচ হয় ৬০০ টাকা। এতে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০টি চারা হয়। বীজ থেকে ২৫ থেকে ৩০ দিনে চারা তৈরি হয়। এরপর প্রায় ৬০ দিন পর চারা থেকে সবজি তোলা যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে সবজি ঘরে তোলা সম্ভব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এর বাইরে সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠে বীজ বপন ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। আগাম সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা তাদের।

সার, বীজ ও কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী বলেন, সবজি চাষ করে এখানকার কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশের এলাকাগুলোতে সবজি বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলায় কোনো সারের সংকট নেই। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। এখন কোথাও কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, কারও কোনো সমস্যা হলে নিকটস্থ কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমাধান পাওয়া যাবে।