পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধের মধ্যেই সিন্ধু নদে বাঁধ ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়াতে সিন্ধু নদে একটি নতুন চেক ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। আপশি এলাকায় নির্মিত এই বাঁধটি লাদাখে সিন্ধু নদীর ওপর নির্মিত প্রথম ‘রক চেক ড্যাম’ বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। খবর ইন্ডিয়া ডটকমের।

বড় বড় প্রাকৃতিক পাথর ও বোল্ডার সাজিয়ে বাঁধটি তৈরি করা হয়েছে। নির্মাণকাজে কোনো সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। বাঁধের কারণে নদীর পানির স্তর প্রায় ১০ ফুট বেড়েছে। ফলে ইগু ফে সেচ খালের মাধ্যমে নদীর পানি কৃষিজমিতে প্রবাহিত করা সম্ভব হচ্ছে।

পাথরের তৈরি এই কাঠামোটিতে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি ধরে রাখা সম্ভব। সংরক্ষিত পানি ইগু ফে খালের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত শুষ্ক কৃষিজমিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে আশপাশের গ্রামগুলোতে সেচের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য পানির উৎস তৈরি হয়েছে।

লাদাখের ঠান্ডা ও শুষ্ক পরিবেশে কৃষিকাজের জন্য পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে বসন্তকালে বীজ বপনের মৌসুমে সিন্ধু নদীর পানির স্তর এমন পর্যায়ে নেমে যায় যে অনেক কৃষকের জন্য পাম্পের মাধ্যমে পানি তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।

নদী গভীর ও সরু গিরিখাত দিয়ে প্রবাহিত হওয়া এলাকাগুলোতে সমস্যাটি আরও প্রকট। নতুন চেক ড্যাম পানি ধরে রেখে নদীর পানির স্তর বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিজমিতে পানি নেওয়া সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষির পাশাপাশি প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। ভারত বর্তমানে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত অবস্থায় রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে লাদাখের সীমান্তবর্তী এলাকায় সিন্ধু নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও ছোট আকারের পানি অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের মনোযোগ বাড়ছে।

আপশির চেক ড্যামকে তাই শুধু একটি সেচ প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

লাদাখ প্রশাসন সিন্ধু নদীর বিভিন্ন এলাকায় আরও এ ধরনের চেক ড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। কিছু এলাকায় কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আরও কয়েকটি প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে।

এছাড়া লাদাখ প্রশাসন ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৬টি চেক ড্যাম নির্মাণের অনুমোদন চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবে লেহতে সাতটি হিমালয়ান রক চেক ড্যাম এবং কারগিলে ২৯টি চেক ড্যাম বা ওয়্যার নির্মাণের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬ কোটি রুপির বেশি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে লাদাখের বিভিন্ন গ্রামের পানি সরবরাহ, সেচ সুবিধা ও সামগ্রিক পানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

—জা.অর্থনীতি/আরএস