তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: অল্প জমি, অথচ স্বপ্ন অনেক বড়। মাত্র ১৫ শতক জমিতে নানা রকম সবজি চাষ করে পরিবারের হাল ধরেছেন কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক মো. মঞ্জু খান। কঠোর পরিশ্রম আর নতুন কৌশলের মাধ্যমে তিনি এখন এলাকার একজন আদর্শ কৃষক।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ১৫ শতক জমিতে লাউ-কুমড়া, বরবটি, ডাঁটা, কলমি শাক ও ঢেঁড়সের মাচা। সারা বছরই তার জমিতে কোনো না কোনো সবজি থাকে। পরিকল্পিত মিশ্র ৬ রকম সবজি চাষ করে ৩ মাসেই দ্বিগুণ লাভ করছেন মঞ্জু খান। মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি খাটিয়ে ৩ মাসেই লাখ টাকার সবজি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। জমি প্রস্তুত, বীজ ও চারা, সার, মাচা ও সেচ, কীটনাশক ও পরিচর্যা, শ্রমিক সবমিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় তার।
কৃষক মঞ্জু খান বলেন, আমার বেশি জমি নাই। ১৫ শতকই সম্বল। তাই একসাথে ৫-৬ রকম সবজি লাগাই। একটা শেষ হইলে আরেকটা ধরে। তিনি বলেন, উপসহকারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন এর পরামর্শে মিশ্র চাষপদ্ধতি অনুসরণ করছি। জৈব সার ব্যবহার করায় খরচ কম, আর সবজির চাহিদাও ভালো। প্রতি সপ্তাহে তাড়াইল ও আশপাশের বাজারে প্রায় ৭-৮ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারি।
সবজি চাষের আয় দিয়েই ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন মঞ্জু খান। তার স্বপ্ন, আগামীতে একটি ছোট পলি হাউস করে শীতকালেও আগাম সবজি উৎপাদন করবেন। মানুষ বলে অল্প জমিতে কিছু হয় না। আমি প্রমাণ করছি, ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে ১৫ শতক জমিই যথেষ্ট বলেন স্বপ্নবাজ এই কৃষক।
তাড়াইল কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে মিশ্র চাষে আগ্রহী কৃষকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও উন্নত জাতের বীজ দেওয়া হচ্ছে। এটা ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য খুবই লাভজনক।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, মঞ্জু মিয়ার মতো ক্ষুদ্র কৃষকরা মিশ্র সবজি চাষের মাধ্যমে নিজেরা লাভবান হচ্ছেন, পাশাপাশি এলাকার পুষ্টিচাহিদাও পূরণ করছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে উন্নত জাতের বীজ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মঞ্জু মিয়ার সফলতা এখন এলাকার অনেক ভূমিহীন ও স্বল্প জমির কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা।
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম