কোটি টাকা লুট করে অনুশোচনা-বার্তা, তবু শেষ রক্ষা হল না

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের মৌচাক এলাকার ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকদের বেতন ও কারখানার অন্যান্য খরচের জন্য বহন করা  চেয়ারম্যানের গাড়ি থেকে ১ কোটি টাকা লুটের ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপু শিল্প পুলিশ-২। এ সময় লুট হওয়া ১ কোটি টাকার মধ্যে ৯৭ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া লুটের টাকায় কেনা আসবাবপত্র ও মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ল্যাভেন্ডার ফ্যাশনের চেয়ারম্যানের (একজন চীনা নাগরিক) গাড়ি থেকে শ্রমিকদের বেতন ও কারখানার অন্যান্য খরচের উদ্দেশ্যে রাখা নগদ ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক জাহিদ হাসান। রাজেন্দ্রপুর কারখানা থেকে ঢাকা ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল ক্যাডেট ক্লাবের সামনে যাত্রাবিরতিকালে এই ঘটনা ঘটে। চুরির পর অভিযুক্ত জাহিদ তার মালিককে মোবাইলে একটি অনুশোচনামূলক খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে কারখানাটি শিল্প পুলিশ-২-এর আওতাধীন থাকায় তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শিল্প পুলিশ-২-এর একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এবং ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ডিবি দলের সহযোগিতায় ঢাকা, গাজীপুর ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন সম্ভাব্য আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের বাসা থেকে নগদ ৮৬ লাখ টাকা, তার মামা আক্তারুজ্জামানের কাছ থেকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের টঙ্গীর বাসা থেকে ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৯৭ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অভিযুক্ত জাহিদ চুরির টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে নতুন বাসা ভাড়া নেন, বাসার জন্য আসবাবপত্র কেনেন এবং একটি নতুন মোবাইল ফোন ক্রয় করেন। পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চোরাই টাকায় কেনা সেই আসবাবপত্র ও নতুন মোবাইল ফোনটিও জব্দ করে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সিংহভাগ অর্থ উদ্ধারে সফলতা অর্জন করে শিল্প পুলিশ-২।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, শিল্প খাতের পরিবেশ বিনষ্টকারী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম