সাদুল্লাপুরে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামে বসতভিটার সীমানা বিরোধের জের ধরে নিরীহ মো. মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় প্রতিবাদী জনতার ব্যানারে খামার দশলিয়া আলিম মাদ্রাসা সংলগ্ন নলডাঙ্গা কাছারী বাজার-হাতিয়া চৌরাস্তা পাকা সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে এলাকার নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল শেখ, স্থানীয় ব্যক্তিত্ব বাবু, শহিদুল ইসলাম ও সাগরসহ অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিপক্ষ রেশমা বেগমের সঙ্গে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও বাস্তবে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। মূলত প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করতে সাজানো ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী গংয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী রেশমা বেগম ও তার স্বামীর বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি প্রতিপক্ষ রেশমা বেগম বিতর্কিত সীমানা ঘেঁষে পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করলে মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলেরা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রেশমা বেগম বাদী হয়ে গত ২৭ জুলাই সাদুল্লাপুর থানায় মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলেসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে আব্দুল মজিদ ও আব্দুল রউফ অভিযোগ করে বলেন, "ঘটনার সঠিক তদন্ত না করেই পুলিশ বাদীর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে গোপনে মামলাটি রুজু করে। মামলা দায়েরের মাত্র দুই দিন পর গভীর রাতে পুলিশ আমার বৃদ্ধ বাবা মোহাম্মদ আলীকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। তিনি দীর্ঘ ১৭ দিন এবং অপর আসামি শহিদুল ইসলাম ১৪ দিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। আমরা এই মিথ্যা মামলার ন্যায়বিচার চাই।"

তবে মামলার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাদী রেশমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মানববন্ধনে তার বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (এসআই) আবু তালেব জানান, "মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি