সিলেট প্রতিনিধি: প্রচলিত কৃষির বাইরে গিয়ে আগাম সবজি উৎপাদন করে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন সিলেটের কানাইঘাটের তরুণ কৃষক আশিকুর রহমান। নিজের জমিতে পরিকল্পিত ও আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম সবজি চাষ করে তিনি যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তেমনই এলাকায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক ও প্রান্তিক কৃষক এখন বাণিজ্যিক কৃষিতে এগিয়ে আসছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সরজমিনে কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ বাউর ভাগ পশ্চিম এলাকার আশিকের সবজি ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় এক মনোরম দৃশ্য।
তিনি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে শসা, লাউ ও ঝিঙার পরিচর্যা করছেন। কখনো গাছের গোড়ায় মাটি দিচ্ছেন, আবার কখনো সার প্রয়োগ ও আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় তার ক্ষেতে সার-কীটনাশকও লেগেছে তুলনামূলক কম।
কৃষি কাজের পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে আশিক জানান, ২০২১ সালে প্রথমবার মাত্র ১৫ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করে তিনি ৭০ হাজার টাকা লাভ করেন। ২০২২ সালে ৪ জাতের তরমুজসহ ২০ শতক জমিতে সবজি চাষ করে তার আয় হয় ৮০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে খরচ বাদ দিয়ে তার নিট লাভ দাঁড়ায় ২ লক্ষ টাকায়। সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সবজির পাশাপাশি তিনি বিদেশি ফল 'সাম্মাম' চাষ করেও প্রচুর প্রশংসা ও অর্থ উপার্জন করেন।
চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৪ বিঘা জমিতে তরমুজ, শসা, ঝিঙা, শিম, করলা ও লাউসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছেন। এরই মধ্যে সবজি বিক্রিও শুরু হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় গত দুই বছরের তুলনায় এবারও বেশি মুনাফার আশা করছেন তিনি। আশিক বলেন, কৃষিকে কেবল জীবিকা নয়, সঠিক পরিকল্পনা দিয়ে লাভজনক ব্যবসায় রূপান্তর করা সম্ভব। আগাম সবজি চাষে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও বাজার ভালো পেলে দ্বিগুণ লাভের সুযোগ থাকে।
স্থানীয় যুবক কামাল হোসেন জানান, আশিক এখন কানাইঘাটের সফল সবজি চাষি হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন এবং তার দেখাদেখি এলাকার বেকার যুবকরা কৃষিমুখী হচ্ছেন। কানাইঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার বিশ্বজিৎ রায় বলেন, আশিকুর রহমান নিয়মিত বিভিন্ন লাভজনক সবজি চাষ করছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে এবং তার দেখাদেখি পুরো উপজেলায় সবজি চাষে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
