জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: অফিসে আপনার ঠিক পাশের ডেস্কের মানুষটা আপনার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। না বুঝেই হয়তো তিনি একটা অস্ত্র হাতে পেয়ে গেছেন, যেটা এখনো আপনি ধরেননি। আপনার চাকরি কেড়ে নেওয়ার জন্য ভয়টা এআই না। ভয়টা হলো মানুষটা এআই ব্যবহার করতে শিখে গেছে।
চাকরির বাজারে এখন একটা কথা ঘুরেফিরে আসছে- এআই সরাসরি আপনার চাকরি কেড়ে নেবে না, বরং যে মানুষটা এআই স্মার্টলি ব্যবহার করতে জানে, সে-ই এআই না জানা মানুষের জায়গাটা দখল করে নেবে। অর্থাৎ প্রতিযোগিতাটা এখন মানুষ বনাম মেশিন না, বরং মানুষ বনাম এআই-দক্ষ মানুষ।
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি: ১৬৬৮ কোটি ডলারে মেটার আপস
এর পেছনে বাস্তব আছে প্রমাণও। র্যাম্প ও রেভেনিও ল্যাবসের এক যৌথ গবেষণায় প্রায় ২২ হাজার প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত এআইতে বিনিয়োগ করছে, সেখানে কর্মীর সংখ্যা গড়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। মানে এআই ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান আসলে লোক কমাচ্ছে না, বরং বাড়াচ্ছে, শুধু সেই লোকগুলো হতে হচ্ছে এআই দক্ষ।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে একই কথা। দ্রুত ও দক্ষভাবে এআই ব্যবহার করতে জানা একজন কর্মী অন্য একজনের জায়গা নিয়ে নিতে পারেন, কারণ আসল দক্ষতা শুধু এআইকে নির্দেশনা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না, বরং ফলাফল যাচাই করা, ভুল ধরা এবং নিজের পেশাগত জ্ঞানের সাথে তা মিলিয়ে নেওয়াতেই।
রোবট কি মানুষের বিকল্প হতে পারবে?
মাইক্রোসফটের একটি গবেষণায়ও একই সুর, যেখানে ২ লাখেরও বেশি কোপাইলট কথোপকথন বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে সহযোগী হিসেবে দেখাটাই বাস্তবসম্মত। যারা এই সহযোগিতাটা কাজে লাগাতে পারছেন, তারাই এগিয়ে যাচ্ছেন।
তাই আসল প্রশ্নটাই এখন বদলে গেছে। প্রশ্ন এখন আর এআই আপনার চাকরি নেবে কিনা তা না, প্রশ্ন হলো, আপনার পাশের মানুষটা এআই শিখে ফেললে আপনি কোথায় দাঁড়াবেন?