সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট-ছাতক সেকশনের ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন সংস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্পের বেধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হতে চললেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। আগামী ২৩ আগস্ট প্রকল্পের ১৮ মাসের মূল মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় নির্ধারিত আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে পুনরায় ট্রেন চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। কাজের ধীরগতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে মেয়াদ আরও ১০ মাস বাড়ানোর আবেদন করেছে।
১৯৫৪ সালে চালু হওয়া সিলেট-ছাতক ৩৩ কিলোমিটার মিটার গেজ রেলপথটি ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ১২ কিলোমিটার রেলপথ ও এমব্যাংকমেন্ট ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ চার বছর ধরে এই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদনক্রমে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পথটি সংস্কারের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড।
বর্তমানে প্রকল্পের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে:
রেলস্টেশন ও কালভার্ট: রুটের তিনটি স্টেশন (খাজাঞ্চিগাঁও, ছাতক ও আফজালাবাদ) আধুনিকায়নের কাজ হয়েছে মাত্র ২০ ভাগ। ১০টি কালভার্টের মধ্যে ৪টির কাজ শেষ হয়েছে এবং ১টি ঢালাই পর্যায়ে রয়েছে; বাকি ৫টির কাজ অসমাপ্ত।
মাটির কাজ ও লাইন পুনঃস্থাপন: ৩৩ কিলোমিটারের মধ্যে ১৩ কিলোমিটার মাটির কাজ শেষ হয়েছে এবং সাড়ে ১০ কিলোমিটারের কাজ চলমান। তবে সাড়ে ৯ কিলোমিটার অংশে এখনও কাজই শুরু হয়নি।
যন্ত্রাংশ ক্রয়: প্রকল্পের জন্য প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে নতুন স্লিপার, রেললাইন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনার কথা থাকলেও তা এখনও সম্পন্ন হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় চার মাস কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় মেয়াদের সময়সীমা ১০ মাস বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। তবে প্রকল্প পরামর্শক দলের প্রধান (ACE-DDC JV) মো. আনার মাহমুদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট ও ঢিলেঢালা ভাবকে এই বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘ চার বছর ধরে ট্রেন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ছাতক, গোবিন্দগঞ্জ ও খাজাঞ্চিগাঁও এলাকার সাধারণ যাত্রী ও সবজি চাষিরা। আগে যেখানে ১২ টাকায় সিলেটে যাতায়াত করা যেত, সেখানে সড়কপথে এখন সময় বেশি লাগার পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা অনতিবিলম্বে প্রকল্পের জটিলতা নিরসন করে দ্রুত ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি