শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের স্লাব ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
এর আগে পদ্মানদীর ভাঙনে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় হাজার হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। নড়িয়া অংশে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হলেও জাজিরায় কাজ চলমান অবস্থাতেই নতুন করে পালেরচর এলাকায় এই ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনে বাঁধের স্লাবসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার আতঙ্কে নিজেদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধের কাজ মানসম্মতভাবে না হওয়া এবং বাঁধের বাইরে পর্যাপ্ত স্লাব ডাম্পিং না করায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দাবি, প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় পর্যাপ্ত স্লাব ফেলা সম্ভব হয়নি, যার কারণে এই আকস্মিক ভাঙন তৈরি হয়েছে।
পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজি জানান, "ভাঙন ঘিরে আমরা অত্যন্ত আতঙ্কে আছি। ভিটেমাটি রক্ষা করতে স্থানীয়দের সার্বক্ষণিক প্রস্তুতির পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে যেকোনো ধরণের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।"
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, "উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়ে দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় ইমার্জেন্সি জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার কাজ বর্তমানে চলমান।"
কাজের মানহীনতার অভিযোগ অস্বীকার করে শরীয়তপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই তীব্র স্রোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭০ মিটার এলাকায় দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন রোদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি