ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে, ওরা বেশি দিন টিকতে পারবে না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কিছু অস্ত্রের সরবরাহের ক্ষেত্রে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরান প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, আমার ধারণা, যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। আমার মনে হয় না ওরা আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে।

রয়টার্স গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের বিশ্বজুড়ে থাকা উচ্চমাত্রায় নিখুঁত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশই ব্যবহার করে ফেলেছে।

গোলাবারুদের মজুত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ প্রায় অসীম। তবে অন্যান্য কিছু অস্ত্রের মজুত যে সীমিত, তা-ও স্বীকার করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, আমাদের খুব শক্তিশালী কিছু গোলাবারুদ আছে; ওগুলোর সরবরাহ প্রায় অসীম বলা চলে। তবে অন্যান্য কিছু অস্ত্রের ক্ষেত্রে সরবরাহ কিছুটা টানাটানিতে রয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উৎপাদন কারখানা তৈরি করছে, যার মধ্যে প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের স্থাপনাও রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি আবার চালুর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে এখনও কোনো চুক্তি হয়নি, তবে শিগগিরই এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যেতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, আমরা খুব ভালো এগোচ্ছি। আমি নিজেই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত আছি। আমার মনে হয় আমাদের অগ্রগতি বেশ ভালো। খুব শিগগিরই এটা (চুক্তি) হয়ে যেতে পারে।

ইরান যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের কাছে হোয়াইট হাউসের ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত অর্থায়নের অনুরোধের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা দারুণ অবস্থানে আছি, তবে আমরা সবসময় আরও বেশি চাই।

এর আগে গত শনিবার ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা স্থগিত করেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে হরমুজ খুলে দেওয়ার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। এরপর সোমবার তিনি দাবি করেন, চুক্তিটি মঙ্গলবার সই হতে পারে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, বুধ বা বৃহস্পতিবার চুক্তি হতে পারে।

এদিকে ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বারবার বড় হামলার হুমকি দেওয়া এবং পরে সমঝোতায় অগ্রগতির কথা বলে তা স্থগিত করার কারণে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে টুইট করেছেন।

গালিবাফ লেখেন, বিশাল হামলা আসছে দাঁড়ান, বাদ দিন, ওরা আলোচনা করতে চায় এটা চক্রাকারে চলতে থাকা নাটুকে কূটনীতি। ভয়ভীতি প্রদর্শন + প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ  ভুয়া খবরকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা একটি ব্যর্থ কৌশল। বাস্তবতা স্বীকার করে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন। আমাদের আর নতুন কোনো নাটকের প্রয়োজন নেই।

বৃহস্পতিবার ইরান আর বেশিদিন টিকতে পারবে না বলে পূর্বাভাস দিলেও গত সপ্তাহেই ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন সামরিক অভিযান এবং অবরোধ সহ্য করে টিকে থাকার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে তিনি 'শ্রদ্ধা' করেন।

এদিকে বুধবার ইরান জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত একটি চুক্তি চূড়ান্ত করছে তারা।

এই আলোচনা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা বলছেন, এই সমঝোতার ফলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের আলোচনা শুরুর পথ সুগম হবে।

এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান যদিও তাদের চাহিদার সবকিছু পাবে না, তবু এর মাধ্যমে হরমুজের ওপর তারা বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ পাবে, যা যুদ্ধের আগে তাদের ছিল না।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি