‘আওয়ামী লীগ জনরোষের মুখে অন্তত দুইবার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে’
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগকে স্বাধীন বাংলাদেশে জনরোষের মুখে অন্তত দুইবার ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে। কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগেরই খুঁজে বের করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। 

বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

আসিফ নজরুল লেখেন, ১৬ ডিসেম্বরের পর ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বিজয়ের দিন।জুলাইয়ের আন্দোলন শুরুতে শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন ছিল না। তবে ১৬ জুলাইয়ের পর নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: একক ব্যক্তি-গোষ্ঠী নয়, গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক জনগণ

তিনি দাবি করেন, নিজের দেশের মানুষের ন্যায্য প্রতিবাদের জবাবে এমন সহিংসতার নজির দক্ষিণ এশিয়ায় বিরল। একই সঙ্গে ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাকেও তিনি আধুনিক বিশ্বের ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, নানা বিতর্ক থাকলেও দলটি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছে এবং সেই যুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তার দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আত্মসমালোচনা ও অনুশোচনার জায়গা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের মানসিকতাই দলটিকে দীর্ঘদিন দমন-পীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারে উৎসাহিত করেছে।

আরও পড়ুন: ৫ আগস্ট, রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা

আসিফ নজরুল আরও লেখেন, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও ভুল ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের মতো ক্ষমতার মালিকানাবোধ এবং অনাচার করার আত্মবিশ্বাস অন্য কোনো দলের মধ্যে তিনি দেখেননি বলে উল্লেখ করেন।

ফেসবুক পোস্টে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এতে আনন্দিত হতে পারেন, তবে তার মতে, জুলাইয়ের সহিংসতায় নিহত ও আহতদের বিচার নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনে তিনি আবারও রাজপথে নামবেন।

—জা.অর্থনীতি/এনজে