মানবপাচার দমনে বাংলাদেশের নতুন আইনের পাশে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের নতুন 'মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬' বাস্তবায়নে কারিগরি ও সমন্বিত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, মানবপাচার দমন, রোহিঙ্গা সংকট, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, কাস্টম ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল এমপি।

বৈঠকে জুলিয়ান হিল বাংলাদেশের নতুন মানবপাচারবিরোধী আইনের প্রশংসা করে বলেন, একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও সমন্বিত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে এবং অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে সরকারের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। তিনি বালি প্রসেসের আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে গত ১৪ থেকে ১৮ জুন অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়। সেখানে নিয়মিত অভিবাসন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক মানবপাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে এবং রোহিঙ্গা ইস্যুকে বৈশ্বিক আলোচনায় সক্রিয় রাখতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রীর 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির আলোকে বর্তমান সরকার সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি