নুরুল ফেরদৌস, লালমনিরহাট: প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন মাত্র শিক্ষক। শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষকের দাবিতে আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চলছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তঘেঁষা দহগ্রাম ইউনিয়ন। দেশের উত্তরের আলোচিত এই জনপদে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় ঐতিহাসিক তিনবিঘা করিডোর। সেই ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারি করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শুরুতে মাত্র ৭ জন শিক্ষক সরকারিকরণের আওতায় আসেন। পরবর্তী সময়ে একে একে ৬ জন শিক্ষক অবসরে গেলে বর্তমানে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শুধু একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক।
প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি ক্লাস নিতে পারছেন। ফলে অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এই পরিস্থিতির অবসান এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের একটাই দাবি-অবিলম্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। চারদিকে ভারতের সীমান্তবেষ্টিত দহগ্রাম ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র পথ তিনবিঘা করিডোর। ফলে উপজেলা শহরে গিয়ে লেখাপড়া করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টসাধ্য। তাই স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
এদিকে বিদ্যালয়ের একমাত্র সহকারী প্রধান শিক্ষক জানান, একাধিকবার শিক্ষক চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য সীমান্তর্বর্তী ইউনিয়ন দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়টির অচলাবস্থা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম জানান, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা করা হবে।
