রাজধানীতে বাড়ছে দুর্ঘটনায় পথচারী হতাহতের সংখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকায় পথচারীদের চলাচলের নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। ফুটপাতগুলো দখল করে রাখেন হকাররা। রাস্তা পারাপারে পথচারীদের জন্য নেই কোনো নিয়ম। তাই রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারী হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। গত সাড়ে ছয় বছরে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯২ জন পথচারী। দ্বিতীয় স্থানে আছে মোটরসাইকেল আরোহী ৫৩৬ জন। 

রাজধানীতে পাঁচটি স্থানকে সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর এলাকা। 
রাজধানীতে যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক, স্বল্প ও দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত হকারের দখলে থাকা, ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া ও ব্যবহার উপযোগী না থাকা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণে অতিমাত্রায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শনিবার বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত সাড়ে ছয় বছরে রাজধানীতে ১,৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১,৩৮৪ জন নিহত এবং ২,৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে পুরুষ ১,০৩৪ জন, নারী ২১৯ জন এবং শিশু ১৩১ জন। নিহতদের মধ্যে পথচারী ৫৯২ জন বা ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, মোটরসাইকেল আরোহী ৫৩৬ জন বা ৩৮ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও যাত্রী ২৫৬ জন  বা ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১,৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১,৩৮৪ জন নিহত এবং ২,৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২০ সালে ১২৪টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত, ২৩৩ জন আহত; ২০২১ সালে ১৩৭টি দুর্ঘটনায় ১৪১ জন নিহত, ২৪৭ জন আহত; ২০২২ সালে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় ২৫৬ জন নিহত, ৩২৪ জন আহত; ২০২৩ সালে ২৯৬টি দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত, ৩৩৫ জন আহত; ২০২৪ সালে ৩৯৪টি দুর্ঘটনায় ২৪৬ জন নিহত, ৪৮২ জন আহত; ২০২৫ সালে ৪০৭টি দুর্ঘটনায় ২২৯ জন নিহত, ৫১১ জন আহত; ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ২২৩টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত, ৩৫৬ জন আহত হয়েছেন।

ঢাকায় বেশি দুর্ঘটনা হয় রাতে
দুর্ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, রাজধানী ঢাকায় বেশি দুর্ঘটনা হয় রাতে। এর মধ্যে ভোরে ১৪২ জন বা ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ, সকালে ২৫৮ জন বা ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ, দুপুরে ১৯৫ জন, বিকালে ১৭৪ জন, সন্ধ্যায় ৯৬ জন এবং রাতে ৫১৯ জন বা ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জিপ ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা-লেগুনা ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। 

এ বিষয়ে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জাতীয় অর্থনীতিকে জানান, দুর্ঘটনাগুলো রাতে এবং সকালে বেশি ঘটেছে। বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি নিহত হচ্ছেন। এছাড়া দীর্ঘসময় যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহানি ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে। 

তিনি আরও জানান, এই প্রেক্ষাপটে রাজধানীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাস-সার্ভিস চালু করতে হবে। বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা অতীব জরুরি।