নিজস্ব প্রতিনিধি: সীমান্ত অতিক্রমকারী পশুরোগের কারণে প্রাণিসম্পদ, খাদ্যনিরাপত্তা ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে যৌথ উদ্যোগ জোরদার করেছে সার্কভুক্ত দেশগুলো। এ লক্ষ্যে রোগ নজরদারি, দ্রুত রোগ নির্ণয়, ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তথ্য বিনিময় আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরামের (এসএলডিএফ) ষষ্ঠ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সার্ক সচিবালয় ও শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। এতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরির পরিচালক, বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্ত অতিক্রমকারী পশুরোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন কমে যায়, কৃষক ও খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং দুধ, মাংস ও ডিমের সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই এ ধরনের রোগ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সমন্বয় এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ড. বি.এস.এস. পেরেরা বলেন, শক্তিশালী ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি ব্যবস্থা শুধু প্রাণিসম্পদ সুরক্ষাই নয়, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য। তিনি উদীয়মান ও সীমান্ত অতিক্রমকারী পশুরোগ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সার্ক কৃষি কেন্দ্রের (এসএসি) সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনূস আলী বলেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রোগ নির্ণয়ের মানদণ্ডের সামঞ্জস্য, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ে সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সার্ক সচিবালয়ের কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বিভাগের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অভিন্ন প্রাণিসম্পদজনিত ঝুঁকির মুখোমুখি। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় তথ্য বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
সভায় পূর্ববর্তী সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরির সক্ষমতা, রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি, জৈবঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
দিনব্যাপী আলোচনা শেষে সীমান্ত অতিক্রমকারী পশুরোগ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, রোগ নজরদারি ও দ্রুত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা উন্নত করা এবং প্রাণিসম্পদ খাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে একটি যৌথ সুপারিশমালা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি