অনলাইন ডেস্ক: সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানিয়েছে সরকার। বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন সংরক্ষণ উদ্যোগ, বন বিভাগের তৎপরতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার ফলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে ২০১৫ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে।
সুন্দরবনের বাঘ ও আবাসস্থল রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: পরিবেশমন্ত্রী
তিনি বলেন, বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী এবং সুন্দরবনের প্রতিবেশ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান নিয়ামক। বাঘ সংরক্ষণ মানে শুধু একটি প্রাণী রক্ষা নয়, বরং পুরো বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
মন্ত্রী জানান, মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমানো এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ১০ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশন সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণ, বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
সুন্দরবনে বর্তমানে ১২৪ বাঘ রয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
বাঘ ও বন্যপ্রাণী পাচার রোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাঘ বা বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধের তথ্য দিলে ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বাঘের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে ৮০টি পুকুর খনন এবং বিশ্রামের জন্য ২০টি টিলা নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি লোকালয়ে বাঘের প্রবেশ ঠেকাতে বন ও জনবসতির মাঝখানে নাইলনের নেট দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যশৃঙ্খল টিকিয়ে রাখতে বাঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বাঘের আবাসস্থল সংরক্ষণের পাশাপাশি টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি