বিনোদন ডেস্ক: ভারতের জনপ্রিয় সংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’। এবারের আসরে বিজয়ীর মুকুট উঠেছে ভারতের ওড়িশার তরুণ কণ্ঠশিল্পী জ্যোতির্ময়ী নায়েকের মাথায়। এর মধ্য দিয়ে ইন্ডিয়ান আইডলের ইতিহাসে প্রথম ওড়িয়া প্রতিযোগী হিসেবে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। প্রায় ১০ মাসের লম্বা সময় পর শেষ হলো এবারের আয়োজন। গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে তার হাতে তুলে দেয়া হয় চ্যাম্পিয়নের ট্রফি। পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন ২০ লাখ রুপি।
এবারের আসরে প্রথম রানারআপ হয়েছেন জবলপুরের তানিস্ক শুক্লা। ফাইনালে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন অংশিকা চোনকার, মনরাজ বীর সিং, মাইসকম্মে বসু ও সুহেল সুফি।
ইন্ডিয়ান আইডল হওয়ার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জ্যোতির্ময়ী বলেন, ‘যাত্রাটা প্রায় এক বছর দীর্ঘ ছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাই এসেছিলাম। এরপর অনেকটা পথ পেরিয়েছি। সবচেয়ে ভালো লাগছে, শেষ পর্যন্ত সেই যাত্রা সার্থক হয়েছে এবং আমি ট্রফি জিতেছি। কখনো ভাবিনি যে পুরস্কারের অর্থ জিতব। শুধু ভেবেছি নিজের সেরাটা দেব এবং ভালো মন্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করব। যেহেতু অর্থের কথা মাথাতেই ছিল না, তাই এটি কীভাবে ব্যবহার করব, তা এখনো জানি না। এবার সেটা নিয়ে ভাবব।’
শোতে নিজের ভালো ও খারাপ সময়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো মুহূর্ত ছিল যখন কিছু আইকনিক গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম এবং সেগুলো ভালো হয়েছিল। আর সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল যখন এলিমিনেশনের (বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া) সময় আমাকে নিচের দিকে রাখা হয়েছিল। তবে আমি অনেক ভোট পেয়েছিলাম এবং কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গেছি।’
সংগীতের প্রতি জ্যোতির্ময়ীর আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ আসার আগে ভক্তিমূলক ও আঞ্চলিক গানের প্রতি তার বিশেষ ঝোঁক ছিল। প্রশিক্ষিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সংগীতের ওপর তার শক্ত একাডেমিক ভিত্তিও রয়েছে। পাশাপাশি তিনি মিউজিক থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। সংগীত ও নিজের কণ্ঠকে ব্যবহার করে মানুষকে সুস্থ্য হতে সহায়তা করতেন তিনি।
‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ অংশ নিয়ে জয়ী হওয়া প্রথম ওড়িয়া কন্যাও জ্যোতির্ময়ী। নিজের এই যাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, “আমিই প্রথম ওড়িয়া মেয়ে, যে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ এসেছে। আমি ভাগ্যবান যে আমার বাবা-মা আমাকে এতটা সমর্থন করেছেন। তারা কখনো আমাকে প্রশ্ন করেননি কিংবা কোনো কিছু করতে বাধা দেননি। আমিও কী করতে চাই, সে বিষয়ে সব সময় খুব পরিষ্কার ছিলাম। আমার লক্ষ্য ছিল শুধু গান গাওয়া এবং এতে সেরা হওয়া। শুরু থেকেই বাবা-মা আমাকে সমর্থন করেছেন। এ কারণেই আজ আমি এখানে পৌঁছাতে পেরেছি।”
এবারের আসরে বিচারক ছিলেন শ্রেয়া ঘোষাল, বিশাল দাদলানি ও বাদশাহ। সঞ্চালনায় ছিলেন আদিত্য নারায়ণ। ফাইনালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উষা উত্থুপ, উদিত নারায়ণ, পাপন, কুমার শানু, শেহনাজ গিল ও উর্মিলা মাতন্ডকর।
—জা. অর্থনীতি/এনএ
