দ্বিতীয় বিয়ে গোপন রাখা কি জায়েজ?
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র সম্পর্কের আড়ালে চুক্তি, নাকি অনন্য কিছু এড়ানোর অজুহাত? বর্তমান সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করা্ এরপর সমাজ চোখ থেকে আড়াল করে রাখা। এরপর নানাবিধ কারণে সামাজে তা প্রকাশ পেয়ে যায়। ইসলাম যেখানে বিয়েকে সহজ ও আনন্দময় করেছে, সেখানে বিয়ের মতো পবিত্র চুক্তিকে গোপন রাখার এই সংস্কৃতি কি আদৌ গ্রহণযোগ্য?

ইসলামি শরিয়তে বিয়ে গোপন রাখার হুকুম সর্বাবস্থায় এক নয়; বরং এটি শর্ত ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

শরয়ি শর্তপূরণ সাপেক্ষে বিয়ে: হানাফি মাজহাবসহ অধিকাংশ ফকিহের মতে, যদি কোনো বিয়েতে শরিয়তের সব শর্ত (যেমন: ইজাব-কবুল এবং কমপক্ষে দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী) সঠিকভাবে পালিত হয়, তবে কেবল পরিবার বা সমাজকে না জানানোর কারণে বিয়ে সরাসরি বাতিল হয়ে যায় না। শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিয়ে সহিহ তথা বৈধ।

সাক্ষীহীন গোপন বিয়ে গ্রহণযোগ্য নয়: সাক্ষী ছাড়া বা শরয়ি বিধান উপেক্ষা করে গোপনে তথাকথিত বিয়ে করা ইসলামে সম্পূর্ণ অবৈধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো বিয়ে নেই। (সুনানে বায়হাকি)।

অকারণে দীর্ঘদিন বিয়ে গোপন রাখা সুন্নাহর চরম পরিপন্থী। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা বিয়ের ঘোষণা দাও। (সুনান তিরমিজি)। প্রকাশ্য ঘোষণা ও ওয়ালিমার মাধ্যমে সমাজকে জানানোর মধ্য দিয়েই বৈবাহিক সম্পর্কের স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা নিশ্চিত হয়।

বিশেষ করে চরিত্র রক্ষার অজুহাতে দ্বিতীয় বিয়ে গোপন রাখা, প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকার বঞ্চিত করা কিংবা ভবিষ্যতে সুযোগ বুঝে সম্পর্ক অস্বীকার করা ইসলামি আমানতদারিতার বরখেলাপ। ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও তার মূল শর্তই হলো চরম ন্যায়বিচার। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনেই সীমাবদ্ধ থাকো। (সুরা নিসা, ৩)।

বিয়ে কোনো ব্যক্তিগত লুকোচুরি নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল সামাজিক প্রতিশ্রুতি। সামান্য সামাজিক সুবিধা বা ভীতি থেকে বিয়ে গোপন রাখা পরবর্তীতে অপবাদ, অন্যায় ও প্রতারণার জন্ম দেয়। তাই ইসলামি বিধান ও সমকালীন সমাজের সুরক্ষা—উভয় নিরিখে বিয়েকে গোপন না রেখে স্বচ্ছ ও উদযাপিত রাখাই সুন্নাহসম্মত পথ।

জা. অর্থনীতি/ উমার