নুরুল ফেরদৌস, লালমনিরহাট: লালমনিরহাট আদীতমারীতে সংস্কার কাজ করতে সড়ক খুঁড়ে কাজ ফেলে পালানো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফায় দফায় চিঠিতেও কাজে লাগাতে পারছে না প্রকৌশল দপ্তর। বর্ষায় খুঁড়ে রাখা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জনদুর্ভোগ।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, ভাদাই ও পলাশী ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের জন্য একমাত্র প্রায় ৫ কিলোমিটারের এ সড়কটি দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় খানাখন্দে ভরে যায়। পথচারীসহ স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির সংস্কারের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর। সড়কটির সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুই কোটি ৫৫ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজ পান লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভোলার চওড়া এলাকার মেসার্স শাকিল ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
নিয়মানুযায়ী দরপত্র শেষে ঠিকাদারের সাথে গত ১২ জানুয়ারি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে লালমনিরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) দপ্তর। চুক্তি মোতাবেক ১৮ জানুয়ারি সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করে ২৬ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। চুক্তিপত্র অনুযায়ী সংস্কার কাজ শুরু করে সড়কটি খুড়ে এবং গাইডওয়াল নির্মান করে প্রায় ২০ শতাংশ কাজের প্রথম বিল হিসেবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
সড়কটি খুড়ে ফেলে রাখার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও পুনরায় কাজ শুরু করেনি। ফলে সড়কটি যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে ভেঙে নষ্ট হচ্ছে তেমনি বেড়েছে জনদুর্ভোগ। জনদুর্ভোগ লাঘব ও এলজিইডির সুনাম রক্ষায় কয়েক দফায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েও কাজে ফেরাতে পারেনি স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর। এখন সড়কটি সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় একটি সুত্র দাবি করেছে, সড়কটি সংস্কার কাজটি ১১ শতাংশ লাভে মেসার্স শাকিল ট্রেটার্সের কাছ থেকে ক্রয় করে কাজ শুরু করেছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিনুর ইসলামের ভাই আলম। ১১ শতাংশ লাভ দিয়ে ক্রয় করে কাজ করা হলে লোকসান হবে, তাই কাজ ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার। তাই এলজিইডির কোন চিঠির জবাব দেননি মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাকিল ট্রেডার্স। ফলে কাজটি বাস্তবায়ন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে বর্ষার আার বৃষ্টিতে সড়কটির অধিকাংশ স্থানে ভেঙে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ বেড়েছে। সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন ঘটছে নানান ধরনের দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় যানবাহনসহ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ীদের পন্য। পঙ্গুত্ব বরণ করছে পথচারীসহ স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, পলাতক ঠিকাদারের জামানত বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।
স্কুলছাত্রী সোনিয়া সুলতানা বলেন, আমরা প্রতিদিন অটোরিকশায় এ পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এ পথে অটোরিকশায় উঠলে ভয়ে বুক কেঁপে উঠে। অটোরিকশা শুধু কাঁপে, কখন যে গর্তে পড়ে হাত পা ভেঙে যায়।
পথচারী স্কুল শিক্ষক শাওন বলেন, আমরা দীর্ঘ প্রায় ৩/৪ বছর খানা খন্দর ভেদ করে এ সড়কে চলাচল করেছি। দীর্ঘ দাবির প্রেক্ষিতে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হলো স্বস্তি ফিরে আমাদের মাঝে। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশি দিন থাকেনি। কাজ শুরুর পরেই কাজ ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার। এখন দুর্ভোগ আরও বেড়েছে কয়েকগুণ। এখন মনে হয় আগের খানাখন্দই ভাল ছিল। মাঝে মধ্যে গর্ত থাকলেও কিছু স্থান ভাল ছিল। এখন পুরো পথেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কারের দাবি করেন তিনি।
মহিষখোচার ব্যবসায়ী গোলাম কবির বলেন, সড়কটি খুড়ে রাখায় ৫ মাস ধরে বড় ট্রাক ঢুকছে না। ফলে ছোট ট্রাকে পণ্য আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে। একটি সড়ক সংস্কার করতে যদি ৬ মাস সময় লাগে। তাহলে ব্যবসা বাণিজ্য করব কীভাবে?
এ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করা বিএনপি নেতার ভাই আলম বলেন, বৃষ্টির জন্য আপাতত কাজটি বন্ধ করা হয়েছে বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।
আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক বলেন, আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফায় চিঠি দিয়েছি কাজ সমাপ্ত করার জন্য। তারা সাড়া দিচ্ছে না। কাজটি দ্রুত সমাপ্ত করতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি জেনেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই ঠিকাদারকে অফিসে ডেকে এনে চাপ প্রয়োগ করেছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় কাজ শুরু করে দ্রুত সময় শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করি দ্রুতই দুর্ভোগ লাঘব হবে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে