বন্যায় পর্যটকশূন্য সাজেক, ফিরলেন আরও ৩৮৩ পর্যটক
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর শুক্রবার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-রাঙামাটির লংগদু সড়কে যান চলাচল। সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হক যুবরাজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সাজেক থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ স্কর্টে আরও ৩৮৩ জন পর্যটক খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি। 

জিয়াউল হক যুবরাজ জানান, সড়কের যেসব অংশ এখনো পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে আছে, সেখানে বাঁশের ভেলা ও নৌকার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করে নিরাপদে নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন করে কোনো পর্যটককে আপাতত সাজেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে কয়েক দফা হালকা বৃষ্টি হলেও লোকালয় থেকে পানি অত্যন্ত ধীরগতিতে নামছে। ফলে দীঘিনালার অধিকাংশ বসতঘর, দোকানপাট ও গ্রামীণ সড়ক এখনো জলমগ্ন থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরেনি। দীঘিনালার মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী হারুণ অর রশিদ বলেন, "বাজারের উঁচু কয়েকটি দোকান ছাড়া প্রায় সব দোকানেই পানি ঢুকে গেছে। আশপাশের গ্রামগুলোর ঘরবাড়ি এখনো পানিতে তলিয়ে থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।" বন্যার কারণে এই অঞ্চলের আমন ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া পানিবন্দী মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকটে ভুগছেন।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, "নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি এবং গতকালের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। তবে দীঘিনালার সঙ্গে লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া মানুষের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জরুরি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।"

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি সদর ও মহালছড়ি উপজেলার নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নতুন করে দেখা দিয়েছে পাহাড়ধসের আতঙ্ক। বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সবুজবাগ ও শালবাগান এলাকায় কয়েকটি ছোট আকারের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা জানান, পাহাড়ধসে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় ২২টি পরিবারের সদস্যদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি